মৌর্য সম্রাট হিসেবে অশোকের পরিচয় | Ashoka’s Identity as a Maurya Emperor




Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ আমরা নিয়ে Ashoka’s Identity as a Maurya Emperor. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে মৌর্য সম্রাট হিসেবে অশোকের পরিচয় | Ashoka’s Identity as a Maurya Emperor

Ajjkal



মৌর্য সম্রাট হিসেবে অশোকের পরিচয় | Ashoka’s Identity as a Maurya Emperor

অশোক (খ্রিস্ট পূর্ব ২৭৩-২৩২ অব্দ) :

বিন্দুসারের পর তাঁর সুযোগ্যপুত্র অশোক খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ সালে মগধের সিংহাসনে বসেন। অশোকের মতো প্রতিভাসম্পন্ন সম্রাট শুধু ভারতের ইতিহাসে নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল। তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি মেলে ডঃ হেমচন্দ্র রায় চৌধুরীর এই মন্তব্যে, ‘অশোকের মধ্যে ছিল চন্দ্রগুপ্তের উদ্যম, সমুদ্রগুপ্তের বিবিধমুখী প্রতিভা এবং আকবরের ঔদার্য।




[১] রাজ্যজয় : সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক পূর্বপুরুষদের চিরাচরিত রাজ্য বিস্তার নীতি অনুসরণ করেন। প্রবল যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি কলিঙ্গ রাজ্যকে মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু কলিঙ্গ যুদ্ধের হত্যালীলা তাঁকে ব্যথিত করে। তিনি এর পর বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন এবং রাজ্য জয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় নীতি গ্রহণ করেন। এইভাবে কলিঙ্গযুদ্ধের পর মৌর্য সাম্রাজ্য একটি ঐক্যবদ্ধ শান্তিবাদী অহিংস রাষ্ট্রে পরিণত হয়।




[২] শাসন ব্যবস্থা : অশোকের শাসন ব্যবস্থায় এককেন্দ্রীয় নীতির প্রভাব থাকলেও তা পিতৃত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সংহতি স্থাপন ছিল তাঁর শাসন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে তিনি শাসন নীতির ভিত্তিতে পরিণত করেন। কল্যাণমুখী প্রশাসন পরিচালনার জন্য অশোক রাজুক, প্রাদেশিক, ধর্মমহামাত্র প্রমুখ নতুন শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ করেন। সব মানুষ আমার সন্তান তুল্য (‘সব মুনিষে প্রজামমা’) এই ছিল তাঁর ধারণা। বস্তুত ভারতের ইতিহাসে অশোকই প্রথম সম্রাট যিনি প্রজা কল্যাণকর রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

[৩] ধর্মনীতি : ব্যক্তিগত জীবনে অশোক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও তিনি তাঁর নিজের ধর্মমত প্রজাদের ওপর জোর করে আরোপ নি। তিনি করেন। শিলালিপিতে ‘ধৰ্ম্ম’ কথাটি ব্যবহার করেছেন। ডঃ রোমিলা থাপার ধর্ম্মের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে অশোক সামাজিক দায়িত্ববোধের মনোভাব নিয়ে ধর্মকে দেখেছিলেন। সে কারণে অশোকের অনুসৃত ধর্মকে কোনো বিশেষ ধর্ম না বলে নৈতিক কর্তব্য পালনের নীতি বলাই যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে ভাণ্ডারকর, বড়ুয়া, হেমচন্দ্র রায় চৌধুরী প্রমুখ ঐতিহাসিকদের অভিমত হল অশোক অর্থে বৌদ্ধধর্মে প্রকৃত দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং তাঁর অনুসৃত নীতিকে বৌদ্ধধর্মের প্রয়োগ বলা চলে।

[৪] বিশ্বজনীন ধর্ম : অশোক যে ধর্ম প্রচার করেছিলেন তা বৌদ্ধধর্মের তুলনায় অনেক বেশি উদার ও মানবতাবাদী বলা যায়। তিনি পরিশুদ্ধ সামাজিক জীবন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে দান, দয়া, প্রভৃতি ১২ টি গুণের অনুশীলন করবার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর প্রচলিত ধর্মে নানা ধর্মের সার কথাগুলি স্থান পেয়েছিল। এই বক্তব্যের যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায় ডঃ রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্যে, ‘অশোক তাঁর ধর্মে ব্যক্তিগত ও সমাজজীবনকে পরিশুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন’। এছাড়াও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে অশোক সুদূর দক্ষিণের চোল, পাণ্ড, কেরলপুত্র, সত্যপুত্র এবং গ্রিস, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ধর্মদূত পাঠান। ঐতিহাসিক ওয়েলস ঠিকই বলেছেন যে, ‘জাপান থেকে ভলগা পর্যন্ত স্থানে অশোক এখনও স্মরণীয় হয়ে আছেন’।

[৫] পরধর্মমত সহিষ্ণুতা : ব্যক্তিগতভাবে অশোক বৌদ্ধধর্মের উপাসক হলেও অন্যান্য ধর্মমতের প্রতিও তিনি সমান শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এই প্রসঙ্গে অশোক ঘোষণা করেন, ‘রাজা সমস্ত সম্প্রদায়ের প্রতিই সমান সম্মান প্রদর্শন করেন। তাঁর রাজত্বে ব্রাক্ষ্মণ, শ্রমণ, জৈন, আজীবক সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী ছিলেন। দ্বাদশ গিরিলেখ অনুশাসন থেকে তাঁর উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

[৬] বৈদেশিক নীতি : সম্রাট অশোক প্রতিবেশী ও অন্যান্য বৈদেশিক রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য শান্তি ও অহিংসার নীতি অনুসরণ করেন। সুদূর দক্ষিণের চোল, পাণ্ড্য, সত্যপুত্র, কেরলপুত্র এই চারটি রাজ্যের সঙ্গে তিনি মিত্রতা গড়ে তোলেন। এছাড়া তাঁর রাজত্বকালে সিংহল, ব্রহ্লদেশ, নেপাল, তিব্বতের সঙ্গেও মৌর্য সাম্রাজ্যের মৈত্রীবন্ধন স্থাপিত হয়। ধর্মপ্রচার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যে তিনি পশ্চিম এশিয়ার গ্রীক রাজ্যগুলিতে দূত পাঠান।




[৭] জনহিতকর কার্যাবলী : বিভিন্ন সংস্কার সাধনের মাধ্যমে অশোক মৌর্য শাসনব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী করে তোলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি বহু রাজপথ, অতিথিশালা, মানুষ ও পশু চিকিৎসালয় স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন ও নানাস্থানে ঔষধির চারা রোপণের ব্যবস্থা করেন। এমনকি তিনি পশুহত্যাও বন্ধ করেন। তিনি বলতেন, ‘সমগ্র মানবজাতির কল্যাণসাধন করার চেয়ে মহৎ কিছু নেই’। অশোকের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যাবলীর অনিবার্য ফলস্বরূপ ব্যাবসা বাণিজ্যের উন্নতি ঘটে এবং সাম্রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়।

[৮] মূল্যায়ন : অশোক ছিলেন বিশ্বের প্রথম জ্ঞানদীপ্ত সম্রাট। বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অশোককে সর্বকালের এবং সর্ব দেশের শ্রেষ্ঠ সম্রাটদের মধ্যে অন্যতম বলে স্বীকার করেছেন। তাঁকে কনস্টানটাইন, আলেকজাণ্ডার, জুলিয়াস সিজার, শার্লেম্যান, আকবর, নেপোলিয়ন প্রমুখ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সম্রাটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সম্রাট বলে অভিহিত করা হয়েছে। অশোকের অনন্য গুণাবলি স্মরণ করেই ঐতিহাসিক এইচ.জি.ওয়েলস যথার্থই বলেছেন যে, “ইতিহাসের পৃষ্ঠায় হাজার হাজার নরপতির মধ্যে অশোক একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র, ভল্গা থেকে জাপান পর্যন্ত তাঁর নামকে এখনও স্মরণ করা হয়।”

সমালোচনা : বিশ্ব ইতিহাসে অশোককে শ্রেষ্ঠতম নৃপতি বলে অভিহিত করা হলেও তাঁর রাজত্বকাল একেবারে সমালোচনা মুক্ত ছিল না, কারণ : প্রথমত, পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁকে ব্রাত্মণ বিদ্বেষী ও মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের জন্য দায়ী করেছেন।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক ভাণ্ডারকরের মতে, অশোকের অতি আধ্যাত্মিক নীতিই মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ডেকে আনে। অবশ্য ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার ও ডঃ হেমচন্দ্র চৌধুরী এইসব সমালোচনার বিরোধিতা করে অশোকের কৃতিত্বকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছেন। আর সে কারণেই ঐতিহাসিক স্মিথস্পষ্টতই বলেছেন ‘অশোক ছিলেন মানবজাতির প্রথম ধর্মগুরু।’







Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।