গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ | Caused the Fall of the Gupta Empire




Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ আমরা নিয়ে এসেছি Caused the Fall of the Gupta Empire. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ | Caused the Fall of the Gupta Empire

Ajjkal



গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ | Caused the Fall of the Gupta Empire

গুপ্ত রাজশক্তির অবক্ষয় ও পতন সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্তের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সামরিক প্রতিভার বলে মগধকে কেন্দ্র করে যে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, তা পঞ্চম শতকের শেষ ভাগ থেকে ভেঙে পড়তে থাকে এবং ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগে তার বিলুপ্তি ঘটে।



মৌর্যযুগ থেকে মোগল যুগ পর্যন্ত ভারতীয় সাম্রাজ্যের পতনের যেসব সাধারণ কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে, গুপ্ত সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না — যেমন রাজপরিবারের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রাদেশিক অভ্যুত্থান, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রবণতা, বিদেশি শত্রুর আক্রমণ, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি।




[১] রাজপরিবারে অন্তদ্বন্দ্ব ও দুর্বলতা : স্কন্দগুপ্তের মৃত্যুর পর গুপ্ত রাজপরিবারে তীব্র অন্তদ্বন্দ্বের সূচনা হয়। স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী সম্রাটরা সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ঐক্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। তাঁদের অযোগ্যতা ও পরস্পর-প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুপ্ত সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তি যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষুণ্ন করে।

[২] আমলাতন্ত্রের অবক্ষয় : মৌর্য সাম্রজ্যের মতো গুপ্ত সাম্রাজ্যের আমলাতন্ত্র সুসংগঠিত ও সুদক্ষ ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের (যেমন : মন্ত্রী, সচিব, আমত্য) বেতনের পরিবর্তে ভূমিদান করার প্রথা ছিল এবং তাদের পদ ছিল বংশানুক্রমিক। এই অবস্থায় আমলাতন্ত্রের দক্ষতা হ্রাস ও অবক্ষয় ছিল স্বাভাবিক ভবিতব্য।

[৩] স্থায়ী সেনাবাহিনীর অভাব : গুপ্ত সাম্রাজ্যের কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী ছিল না। সেনাবাহিনী, রণহস্তি ও যুদ্ধের ঘোড়ার জন্য গুপ্ত সম্রাটদের সম্পূর্ণভাবে প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও সামন্তদের ওপর নির্ভর করতে হত। সামন্তনির্ভর এই ধরনের সাম্রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সম্ভব নয় এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।




[৪] সামন্তদের শক্তি বৃদ্ধি ও ক্রমহ্রাসমান কেন্দ্রীয় শাসন কর্তৃত্ব : গুপ্তযুগের প্রথমদিকের শক্তিশালী এককেন্দ্রিক শাসনকাঠামো পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে সামন্তনির্ভর যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়। গুপ্তরাজাদের মধ্যে ব্রাহ্মণদের ভূমিদান করা ছাড়াও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের গ্রাম দান করার প্রথা ছিল। এর ফলে ধীরে ধীরে গুপ্ত সাম্রাজ্যের বহু অঞ্চলের ওপর সম্রাটের কর্তৃত্বের পরিবর্তে প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও সামন্তদের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়। গুপ্ত সাম্রাজ্যের শক্তিশালী সামন্ত রাজাদের মধ্যে কণৌজের মৌখরী বংশ, মান্দাশোরের যশোবর্মন ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

[৫] বিদেশি আক্রমণ ও অর্থসংকট : বিদেশি আক্রমণ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রথম কারণ। প্রথম কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্তের আমলে পুষ্যমিত্র ও হূণদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্যের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, হূণ আক্রমণ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ। কিন্তু মনে রাখা দরকার যে, গুপ্তসম্রাটরা হূণ আক্রমণ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন। তবে সেই সঙ্গে একথাও অনস্বীকার্য যে, বিদেশি শত্রুর ক্রমাগত আক্রমণের ফলে গুপ্ত সাম্রাজ্যে এক দারুণ অর্থনৈতিক সংকটের উদ্ভব হয় যা নিরসন করা সম্ভব হয়নি।

[৬] সামন্ত ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা : গুপ্ত রাজপরিবারের অন্তর্কলহ ও বিদেশি আক্রমণের ফলে যে গোলযোগের উদ্ভব হয়, তার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন প্রাদেশিক শাসকরা ও সামন্তরা। মালবের যশোধর্মন, বলভী-র মৈত্রক, কনৌজের মৌখরী প্রভৃতি সামন্তরা গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। প্রাদেশিক শাসকরাও সেই সুযোগ গ্রহণ করেন। গুপ্তসম্রাটদের এমন শক্তি ছিল না যে, সামন্ত ও প্রাদেশিক শাসকদের দমন করে সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করতে পারেন।

[৭] পরবর্তী গুপ্ত সম্রাটদের যুদ্ধবিমুখতা : স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী গুপ্তসম্রাটদের যুদ্ধ-বিমুখতা ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের অপর কারণ। পরবর্তী গুপ্ত সম্রাটদের অনেকেই (যেমন : বুধগুপ্ত, তথাগতগুপ্ত, বালাদিত্য প্রমুখ) বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে স্বভাবতই যুদ্ধবিমুখ হয়ে পড়েন। সম্রাটদের এই যুদ্ধ-বিমুখতা মৌর্য সাম্রাজ্যের মতো গুপ্ত সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তিও যারপরনাই ক্ষুণ্ন করে।

[৮] অর্থনৈতিক অবক্ষয় : গুপ্ত সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক অবক্ষয় এই সাম্রাজ্যের পতনের আর-এক কারণ। এই অবক্ষয়ের মূলে ছিল বাণিজ্যের সংকোচন। চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে বর্বরদের রোম আক্রমণের ফলে ভারত-রোম বাণিজ্যের অবনতি ঘটে এবং রোমে ভারতীয় পণ্যের আমদানি যথেষ্ট কমে যায়। আবার চিন রেশম তৈরির কৌশল আয়ত্ত করলে চিনে ভারতের রেশমের চাহিদা কমে যায়। অথচ সমৃদ্ধ বাণিজ্য ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যের আয়ের প্রধান উৎস। এছাড়া সামন্তরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে সম্রাটকে দেয় কর বন্ধ করে দেন। সুতরাং, অর্থনৈতিক অবক্ষয় গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য করে তোলে।




Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।