পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু সম্পর্কে বিস্তারিত | Climate of West Bengal

Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ নিয়ে এসেছি Climate of West Bengal. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু সম্পর্কে বিস্তারিত | Climate of West Bengal

Ajjkal

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু সম্পর্কে বিস্তারিত | Climate of West Bengal

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে সাধারণভাবে চারটি ঋতুতে ভাগ করা যায়— গ্রীষ্মকাল, মৌসুমি বায়ুর আগমন কাল, মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল ও শীতকাল।

■ [ক] গ্রীষ্মকাল — পশ্চিমবঙ্গে মোটামুটিভাবে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল,

❏ গ্রীষ্মঋতুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

● 21 মার্চের পর থেকে উষ্মতা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে।

● মালভূমি অঞ্চলে এপ্রিল মাসে, সমভূমি অঞ্চলে মে মাসে এবং পার্বত্য অঞ্চলে জুন মাসে সব থেকে বেশি গরম পড়ে।

● সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা 18°সে থেকে 43°সে -এর মধ্যে থাকে।

● বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বইতে আরম্ভ করে। কালবৈশাখি ঝড়ের প্রাদুর্ভাব ঘটে ও সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিপাত আউশ ধান, পাট ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।

● উষ্মতা উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে বাড়তে থাকে।

■ [খ] মৌসুমি বায়ুর আগমন কাল – পশ্চিমবঙ্গে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল।

❏ বর্ষা ঋতুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

● দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দ্বারা সর্বত্র বৃষ্টিপাত হয়।

● পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে ও পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে উত্তর থেকে দক্ষিণদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে থাকে।

■ [গ] মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল — সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল বা শরৎকাল।

❏ শরৎকাল ঋতুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল —

● দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুরূপে প্রত্যাবর্তন করতে থাকে।

● আকাশ পরিষ্কার থাকে।

● সকালে শিশির পড়তে শুরু করে।

● মাঝে মাঝে ‘আশ্বিনের ঝড়’ দেখা যায়।

■ [ঘ] শীতকাল — পশ্চিমবঙ্গে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল। এই ঋতুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

● উষ্মতা 0°সে থেকে 16°সে -এর মধ্যে থাকে।

● জানুয়ারি শীতলতম মাস।

● বৃষ্টিপাত সাধারণত হয় না।

● সব থেকে বেশি শীত পড়ে দার্জিলিং জেলায়, সব থেকে কম সাগর দ্বীপে।

● এই সময় উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।

● উষ্মতার পরিমাণ দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমদিকে কমতে থাকে।

■ শুষ্ক ও আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্য :

‘মৌসুমি’ কথাটি এসেছে আরবি শব্দ ‘মৌসম’ (= ঋতু, মরশুম) থেকে। মৌসুমি বায়ু -র বৈশিষ্ট্য হল, এই বায়ু গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের দিক থেকে বয়ে এসে- স্থলভাগের ভিতরে প্রবেশ করে, আবার শীতকালে ওই পথেই প্রত্যাবর্তন করে। যেমন আমরা বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসি আবার ওই পথেই বাড়ি ফিরি।

■ এইরূপ আগমন ও প্রত্যাবর্তনের কারণে মৌসুমি বায়ু যে বিশিষ্টতা লাভ করে সেই অনুযায়ী মৌসুমি বায়ুকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— [ক] আর্দ্র মৌসুমি বায়ু ও [খ] শুষ্ক মৌসুমি বায়ু। আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

● গ্রীষ্ম ঋতু পড়ার সময় থেকে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

● সমুদ্রের দিক থেকে বয়ে স্থলভাগের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসার পথে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে, বায়ু আৰ্দ্ৰ হয়।

● স্থলভাগে অনুকূল অবস্থায় বৃষ্টিপাত ঘটায়। গ্রীষ্মকালের যে সময়টা জুড়ে আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর দ্বারা বৃষ্টিপাত হয়, সেই সময়টি বর্ষাকাল।

■ শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল :

● গ্রীষ্ম ঋতু শেষ হওয়ার পর থেকেই বইতে শুরু করে। স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

● স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসে বলে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করার কোনো সুযোগ পায় না, বায়ু শুষ্ক হয়। ফলে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

■ পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাতের বণ্টনবৈশিষ্ট্য : পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা, পদ্মার উত্তরদিকে মালদহ থেকে দার্জিলিং-জলপাইগুড়ির দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। যেমন — মালদহে 145 সেমি, দার্জিলিং 320 সেমি।

● গঙ্গা-পদ্মার দক্ষিণদিকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। যেমন — কলকাতা 160 সেমি, বর্ধমান 153 সেমি, সিউড়ি 142 সেমি।

● সারা পশ্চিমবঙ্গে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।

● সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় জলপাইগুড়ি জেলায় বক্সাদুয়ার অঞ্চলে 500 সেমি।

● সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় বীরভূম জেলায় ময়ূরেশ্বর -এ মাত্র 95 সেমি।

■ পশ্চিমবঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :

● পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ পার্বত্য অঞ্চল। সুতরাং সমভূমি অঞ্চল অপেক্ষা এখানে উষ্ণতা সারা বছরই কম থাকে।

● বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।

● এখানকার বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় সারা বছরই বেশি থাকে।

● শীতকালে জানুয়ারি মাসে উন্মুতা 2° সেলসিয়াসেরও নীচে নেমে আসে, বরফ পড়ে। গ্রীষ্মকালে মে মাসে, এখানকার আবহাওয়া আরামপ্রদ থাকে। উষ্মতা 14° সে মতো।

Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।