ব্রিটিশ শাসনকালে নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রন আইন | Dramatic Acts During British Rule

ব্রিটিশ শাসনকালে নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রন আইন | Dramatic Acts During British Rule

ব্রিটিশ শাসনকালে নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রন আইন | Dramatic Acts During British Rule

■ প্রশ্ন:- নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রন আইন সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। (Dramatic Acts During British Rule).

■ উত্তর:- ❏ ভূমিকা:- ভারতীয়দের মধ্যে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটে। এই অবস্থায় ইংরেজ সরকার ভারতীয়দের এই নবজাগ্রত জাতীয়তাবাদকে দমন করতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল আইন প্রণয়ন করে।

■ জাতীয়তাবাদী নাটক:- জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ ভারতীয়রা এ সময়ে বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ করে ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারের জ্বলন্ত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’, অমৃতলাল বসুর ‘চা-কর দর্পণ’ ও ‘জগদানন্দ ও যুবরাজ’, উপেন্দ্রনাথ দাসের ‘সুরেন্দ্র বিনোদিনী’, ‘হনুমান চরিত’ প্রভৃতি দেশাত্মবোধক ও জাতীয়তাবাদী নাটকগুলি জনগণকে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে।

■ নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন:- এই পরিস্থিতিতে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই মার্চ গভর্নর জেনারেল লর্ড নর্থব্রুক নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ করে জাতীয়তাবাদী নাটক মঞ্জস্থের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এই আইন অনুযায়ী—

● (১) জাতীয়তাবোধ বিকাশের সহায়ক এমন কোনো নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না।

● (২) কোনো নাটক অভিনয়ের আগে তার পাণ্ডুলিপি পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।

● (৩) পুলিশ অনুমতি দিলে তবে সেই নাটকটি মঞ্চস্থ করা যাবে।

❏ প্রতিবাদ:- এই আইনের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। ভারতসভা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সংস্থার নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। এছাড়া ‘বেঙ্গলি’, ‘সাধারণী’ প্রভৃতি পত্রিকায় এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়। এলাহাবাদ, লখনউ, কানপুর প্রভৃতি শহরেও এই আইনের বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিবাদ সভা করে।