July 2, 2020
Environment

Environment and pollution

Introduction and Environment pollution is a hot topic in the modern world. The only prayer of the people who have lost their way in the poisonous vapor of machine civilization is to live and save. ‘ But today that environment is trapped in the octopus of pollution. This beautiful environment is being polluted in three ways (1) natural pollution; (2) social and cultural pollution; And (3) mental pollution. In order for people to keep pace with the environment in the future, people need to play an active role in overcoming this pollution. History of environmental pollution: In the past, primitive people adapted to the environment, so the environment of that day was suitable for them to live. By fertilizing the barren soil, they have grown the crops of the army.

পরিবেশ বলতে বুঝি(mean environment):

আমাদের চারপাশ অর্থাৎ আমরা যেখানে বাস করি তার বসে বসে আশেপাশে মানুষজন, ঘর-বাড়ি, পশুপাখি, স্থল, জল, বায়ু, মাটি এইসব নিয়েই আমাদের পরিবেশ বা Environmen. আমাদের মায়ের মতন কিন্তু সেই পরিবেশকেই আমরা প্রতিনিয়ত দূষণ করে চলেছি নিজেদের সুখ ভোগের জন্য তাই আমাদের দরকার এই পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা।

আমাদের পরিবেশ

পরিবেশ ও দূষণ( Environment and pollution )

পরিবেশদূষণ আধুনিক বিশ্বের এক অগ্নিগর্ভ বিষয় । যন্ত্র সভ্যতার বিষবাষ্পে দিশাহারা মানুষের এখন একটাই প্রার্থনা বাঁচো এবং বাঁচাও।’একসময় মানুষ সবুজ পৃথিবী – মায়ের বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে দিনযাপন করেছে । কিন্তু আজ সেই পরিবেশ দূষণের অক্টোপাশে বন্দি । এই সুন্দর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তিনভাবে ( ১ ) প্রাকৃতিক দূষণ ; ( ২ ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দূষণ ; ও ( ৩ ) মানসিক দূষণ । আগামী দিনে মানুষকে পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে , মানুষকে বাঁচতে হলে এই পরিবেশদূষণ প্রতিকারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে ।

পরিবেশদূষণের ইতিহাস ( History of environmental pollution) :

আদিম মানুষ অতীতে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলত বলে সেদিনের পরিবেশ তাদের কাছে ছিল বসবাসের উপযুক্ত । অনুর্বর মাটিকে উর্বর করে তাতে তারা ফলিয়েছে সােনার ফসল । নদী কিংবা ঝরনার জল মানুষ অনায়াসে পান করেছে । সেদিন প্রকৃতির বাতাসও ছিল পবিত্র । কিন্তু যেদিন মানুষ পাথরে পাথরে ঘষা লাগিয়ে আগুন জ্বালাতে শিখেছে । সেদিন থেকে পরিবেশেদূষণের জয়যাত্রা শুরু । পরিবেশের ওপর এভাবে মানুষ যতই অত্যাচার করতে থাকল , ততই দূষণের – যাত্রা পথ প্রশস্ত হতে থাকল । উত্তরাধিকার সূত্রে সেই পাপের ভাগীদার আজ আধুনিক মানুষ । জ্ঞান – বিজ্ঞানে তারা যতই উন্নত হচ্ছে ততই বাড়ছে । দূষণের অভিশাপ । বর্তমানে এই পরিবেশ – ভাবনা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কাছে গভীর দুশ্চিন্তার বিষয় ।


প্রাকৃতিক উপায়ে পরিবেশদূষণ(Environmental pollution in natural ways) :

( ক ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি -প্রয়ােজনের তাগিদে জল , মাটি , বায়ুর ওপর পড়ছে প্রচণ্ড চাহিদার চাপ । ফলে অরণ্যসম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে । উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ হচ্ছে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন ।

( খ ) বেড়েছে ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের চাহিদা । প্রতিদিন কারখানার বর্জ্য পদার্থ , গৃহস্থের বাড়ির আবর্জনা , কীটনাশক , রাসায়নিক পদার্থ — নদী বক্ষে ও দীঘিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে । সেই জল বাহিত দূষিত পদার্থ আমাদের শরীরে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে নিয়মিত প্রবেশ করে চলেছে ।

( গ ) কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া , উনুনের ধোঁয়া , খনিজ তৈল চালিত যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া — পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ ।

( ঘ ) বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা সালফার , নাইট্রোজেন , ক্লোরােফ্লুরােকার্বন , CO , কার্বন মনােক্সাইড , পারমাণবিক বিস্ফোরণ বায়ুমণ্ডলকে ভয়ংকরভাবে দূষিত করে চলেছে ।

বাতাস দূষণ
জল দূষণ

( ঙ ) খনি থেকে কয়লা , খনিজ তৈল ইত্যাদি উত্তোলনের সময় এবং বৃক্ষচ্ছেদনের ফলে ভূমিক্ষয় , ভূদূষণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে ।

প্লাস্টিক দূষণ (Plastic pollution):

হল পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থের আহরণ যা পরবর্তীতে যে বন্যপ্রাণ, বন্যপ্রাণআবাসস্থল, এমনকি মানবজাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে৷

[১] আকারের উপর ভিত্তি করে, মাইক্রো-, মেসো-, অথবা ম্যাক্রোবর্জ্য এই তিনভাগে প্লাস্টিক দূষণকে শ্রেণীকরণ করা হয়।

[২] নিয়মিত প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, গৃহস্থালির প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃচক্রায়ন হয় না৷ এগুলো পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷ মানুষের অসচেতনতাই প্লাস্টিক দূষণের প্রধান কারণ ৷ প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে ৷ তাই একে “অপচ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

প্লাস্টিক দূষণ
প্লাস্টিক দূষণ

[৩]তাই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে ৷ সাধারনত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে৷ প্লাস্টিক বর্জ্য ঐসকল প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে।

[৪]শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৷ থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী৷ শুধুমাত্র আমেরিকাতে প্রতিবছর ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয় ৷ এগুলোর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন হয়ে থাকে ৷ অন্য ৩.৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য আকারে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়৷

[৫] বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ৷ বাংলাদেশেও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দূষণ (Social and cultural pollution):

বিশ্বের সব দেশে গ্রাম ও শহরের অধিবাসীদের মধ্যে জীবনযাত্রার পার্থক্য সুস্পষ্ট । গ্রামীণ সমাজে আজও সুখে – দুঃখে , উৎসবে – আনন্দে মানুষে মানুষে প্রীতি ও সৌহার্দের সম্পর্ক থাকলেও সেখানে আন্তরিকতার দিক ক্রমাগত লােপ পাচ্ছে । শহরের বুকে মানুষ ইদুরদৌড় দৌড়ােতে দৌড়ােতে একাকী ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে ক্রমাগত । সমাজে ধনী – দরিদ্রের পাল্লা আজও মানুষকে দুঃসম্পর্কের চরম সীমায় নিয়ে যাচ্ছে । সাংস্কৃতিক জগতেও প্রবেশ করেছে অপসংস্কৃতি । সমাজের বেশিরভাগ মানুষ হারিয়েছে মূল্যবােধ । রুচিহীন আমােদ – প্রমােদ , অশ্লীল সাহিত্য , অশালীন ছায়াছবি আমাদের শিক্ষা – সংস্কৃতির পরিবেশকে সম্পূর্ণ গ্রাস করতে চলেছে । দলীয় স্বার্থ , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় , বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের বিবেকহীনতা আজকের তরুণ সমাজকে বিপথগামী করে তুলছে । বর্তমানের পবিত্র শিক্ষায়তনগুলি পর্যবসিত হচ্ছে রাজনৈতিক দলের আখড়ায় । সাংস্কৃতিক পরিবেশে এই দূষণের কারণে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বাঙালিরা পিছিয়ে পড়ছে দিনে দিনে ।

মানসিক দূষণ(Mental pollution):

বর্তমান সমাজে মানসিক দূষণ সুস্থ পরিবেশ গঠনের আর – এক অন্তরায় । বর্তমান প্রজন্মের শিশু পায় না বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিমণ্ডল । তারা পায় না স্বাধীনভাবে গড়ে ওঠার মতাে প্রাকৃতিক পরিবেশ । ফলে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় অপরাধপ্রবণতা । এ থেকে তারা নির্জনতার দিকে অগ্রসর হয় এবং মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে । যুবসম্প্রদায় সমাজের গড্ডলিকা স্রোতে গা ভাসিয়ে সর্বনাশের পথ ধরে এগিয়ে চলে । না পাওয়ার বেদনা , হতাশার বেদনা তাদেরকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তােলে । বাড়ির বড়ােরা , এমনকি বৃদ্ধ – বৃদ্ধারা একান্ত আপনজন খুঁজে পায় না কথা বলার জন্য । সমাজে কেউ কারও ভালাে দেখতে পারে না । প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিযােগিতায় মেতে ওঠে এবং পরিণাম ‘ সকলেই সকলকে আড়চোখে দেখে ।

পরিবেশ রক্ষার উপায়(Ways to protect the environment):

( ১ ) প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপযুক্তভাবে গড়ে তােলার স্বপ্নে পরিবেশপ্রেমী সচেতন মানুষকে নবচেতনালােকের জোয়ারে জেগে উঠতে হবে ।

( ২ ) পরিবাবের আদর্শ , রুচিবােধ , মানসিকতার উর্ধ্বে , মনের বিকাশের দিকে প্রত্যেককে নজর দিতে হবে ।

( ৩ ) যুবসমাজকে অপসংস্কৃতির পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে ।

( ৪ ) সমাজে শিশুপাঠ্য লাইব্রেরি ও পূর্ণাঙ্গ পাঠাগার প্রকল্প বেশি করে গড়ে তুলতে হবে ।

( ৫ ) নিয়মানুবর্তিতা , সময়ানুবর্তিতা ,সৌজন্য ও শিষ্টাচার সম্পর্কে প্রত্যেককে সচেতন করতে হবে ।

( ৬ ) উপযুক্ত দূষণমুক্ত পরিবেশ গঠনে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে ।

সবশেষে বলা যায়, জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ও পরিবেশকে রক্ষা করতে না পারলে প্রত্যেকের জীবন নেমে আসবে মৃত্যুর কালাে মেঘ । সুস্থ পরিবেশ দেয় সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি । তাই প্রকৃতি , পরিবার , শিক্ষাক্ষেত্র এমনকি সমাজ — সর্বত্রই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা দরকার । এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযােগ্য করে’তুলতে শুধু কবি – শিল্পীরা নয় , আমাদের সকলকেই ‘ দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে ।

আরও পড়ুনঃ গীতগোবিন্দ কাব্য

Leave a Reply