সংক্ষিপ্ত টীকা- গণদেবতা উপন্যাস (Ganadevta Novel), পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস

Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ নিয়ে এসেছি গণদেবতা উপন্যাস (Ganadevta Novel), পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে গণদেবতা উপন্যাস (Ganadevta Novel), পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস

Ajjkal

গণদেবতা উপন্যাস (Ganadevta Novel), পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস

■ গণদেবতা উপন্যাস:-

উত্তর:: ‘গণদেবতা’ তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দে। এই উপন্যাসে আধুনিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রাম্য সমাজের প্রাচীন রীতিনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। দেবু পণ্ডিত, দ্বারিক চৌধুরী, শ্রীহরি, অনিরুদ্ধ, দুর্গা, পদ্ম প্রমুখ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। গণদেবতা উপন্যাসটির মধ্যে তারাশঙ্করের গ্রাম সম্পর্কিত ব্যাপক অভিজ্ঞতার বিবরণ প্রকাশিত। ‘ধাত্রীদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’ প্রভৃতি উপন্যাসে লেখক বাংলার প্রাচীন সমাজ জীবনের যে পরিবর্তনের চিত্র এঁকেছেন, ‘গণদেবতা’ উপন্যাসে তার বিস্তৃত রূপ দেখা গেছে। সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা থেকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বণিকতন্ত্রের উত্থানের ফলে গ্রাম্য সমাজজীবনের মূল্যবোধের যে বিরাট পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছিল, আলোচ্য উপন্যাসে তার বাস্তব রূপটি বর্ণিত হয়েছে।

এই উপন্যাসে চরিত্রগুলি সমাজজীবনের এক একটি প্রতিনিধি। তারা প্রত্যেকেই আপন আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। লেখক প্রধানত বৰ্ণনাত্মক ভঙ্গীতে উপন্যাসের কাহিনী বিবৃত করেছেন, ঘটনা বিন্যাসের মধ্যে শিথিলতা থাকলেও তা বিস্মৃত জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

■ হাঁসুলি বাঁকের উপকথা উপন্যাস:-

উত্তর:: ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে। এই উপন্যাসে হিন্দু ধর্মের নিম্নবর্ণীয় অন্ত্যজ সমাজের বিচিত্র জীবন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। সুচাঁদ, বনোয়ারি, করালি, সুবাসী প্রমুখ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ একটি বিশুদ্ধ আঞ্চলিক উপন্যাস। বীরভূমের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্ত্যজ সমাজের বিচিত্র জীবনযাত্রা, তাদের হাসি কান্না, সুখ, দুঃখ আশা আকাঙ্খা হিংস্র ঘাত প্রতিঘাতের কাহিনী এর মধ্যে বর্ণিত। এই উপন্যাসে প্রত্যন্ত সমাজের সাধারণ মানুষদের বিচিত্র জীবনযাত্রা গভীর বাস্তবতায় বর্ণিত। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত এই উপন্যাসে কল্পনার বিশেষ কোন অবকাশ নেই। অধিকাংশ চরিত্রই সুচিত্রিত ও আপন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। কাহিনীর মধ্যে নাটকীয়তা আছে এবং তাদের মুখের আঞ্চলিক ভাষা তাদের প্রামাণ্য করে তুলেছে।

■ পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস:-

উত্তর:: ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে শশী নামক এক যুবকের সমস্যামুখর ভালোবাসার বৈচিত্র্য বর্ণিত হয়েছে। শশী, কুসুম, বিন্দু, মতি, কুমুদ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন, এ সংসারে সকলেই যেন পুতুলের মতো নেচে চলেছে।

এই উপন্যাসে শশী ডাক্তার, কুসুম, মতি, কুমুদ, গোপাল দাস, মেজদিদি প্রভৃতি বিচিত্র চরিত্রের সমাবেশে নরনারীর সম্পর্কের জটিলতার দিকটি দেখানো হয়েছে। অনন্ত তার ছোট মেয়ে কুসুম সম্পর্কে শশীকে বলে – “সবচেয়ে ছোট মেয়ে, বড় দুবোনের বিয়ের পর ওই ছিল কাছে, বড় আদরে মানুষ হয়েছিল — একই খেয়ালী হয়েছে প্রকৃতি। সবচেয়ে ভালো ঘর বর দেখে বিয়ে দিলাম, ওর অদেষ্টেই হল কষ্ট। সংসারে মানুষ চায় এক, হয় আর, চিরকাল এমনি দেখে আসছি ডাক্তারবাবু। পুতুল বইতো নই আমরা, একজন আড়ালে বসে খেলাচ্ছেন। ‘পুতুল – নাচের ইতিকথা’র বাস্তবতার প্রসার কিছু বেশী কিন্তু অসংলগ্নতা প্রায় পূর্ববৎ রয়েছে। গাউদিয়া গ্রামের জীবনযাত্রা-প্রণালী ও বিশেষ কয়েকটি সমস্যার যে ছবি আঁকা হয়েছে তা এক হিসেবে আমাদের সাধারণ পল্লীসমাজচিত্রেরই একটি খণ্ডাংশ। কিন্তু তথাপি এর রেখা ও আলোছায়ার বণ্টন এরূপভাবে বিন্যস্ত হয়েছে যাতে অপরিচয়ের একটা সূক্ষ্ম যবনিকা একে আড়াল করে থাকে।

Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।