Indian rebellion of 1857

মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) ( Greatest Indian rebellion of 1857), সিপাহী বিদ্রোহ, বিদ্রোহের কারণ; বিস্তার; প্রকৃতি; বিদ্রোহ দমন; ব্যর্থতার কারণ

Indian Rebellion of 1857: Greatest Indian Rebellion of 1857 The spontaneous mass revolts against the monarchy – the Sannyasi Rebellion, the Chuar Rebellion, the Koch Rebellion, the French and Wahhabi Movement, the Cole Rebellion, the Santal Rebellion, etc. Indian rebellion of 1857 was the final manifestation of these protests.

মহাবিদ্রোহ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ (Indian rebellion of 1857):

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে সংঘটিত সন্ন্যাসী – বিদ্রোহ , চুয়াড় – বিদ্রোহ , কোচ – বিদ্রোহ , ফরাসি ও ওয়াহাবী আন্দোলন , কোল – বিদ্রোহ , সাঁওতাল বিদ্রোহ প্রভৃতি স্বতঃস্ফূর্ত গণবিদ্রোহগুলি ছিল ইংরেজ শাসন এবং রাজকর্মচারীদের ও জমিদারদের শােষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ হল এইসব বিক্ষোভের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি।

Indian rebellion of 1857
Indian rebellion of 1857

মহাবিদ্রোহের কারণ (Cause of Indian rebellion of 1857):

ঐ ভারতে কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহ দেখা দিলেও তা ব্রিটিশ শাসনের অস্তিত্বকে বিপন্ন করেনি । কিন্তু ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ (Indian rebellion of 1857) সামগ্রিক ভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেয় । যদিও এই মহাবিদ্রোহ কোনাে আকস্মিক ঘটনা ছিল না । এই বিদ্রোহের কারণ অনুসন্ধান কালে ঐতিহাসিকরা সমকালীন আর্থসামাজিক তথা রাজনৈতিক , ধর্মীয় এবং সামরিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরােপ করেছেন।

[ ১ ] রাজনৈতিক কারণ (Political cause of Political Indian rebellion of 1857):

রাজনৈতিক কারণে দেশের অভ্যন্তরে ব্রিটিশ বিরােধী বিক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল । ডালহৌসীর স্বত্ববিলােপ নীতি ‘ প্রয়ােগের ফলে ঝাসী , নাগপুর , সাতারা প্রভৃতি রাজ্যগুলি গ্রাস করা হয়। তাঞ্জোর ও কর্ণাটকের রাজপরিবার এবং পেশােয়া পুত্র নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই ভাবে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে কুশাসনের অজুহাতে অযােধ্যা রাজ্যকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়। এইভাবে যে সমস্ত দেশীয় রাজ্যকে ইংরেজরা অধিকার করে নিয়েছিল সেইসব রাজ্যের কর্মচারীরা কর্মচ্যুত হয়ে যায় এবং জীবিকাহীন হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা ব্রিটিশের প্রতি বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ( Indian rebellion of 1857) বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

[ ২ ] অর্থনৈতিক কারণ (Economic cause of Indian rebellion of 1857):

(ক) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের আগের একশ বছর ধরে ইংরেজরা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ইংল্যাণ্ডে নিয়ে গিয়েছিল তার ফলে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

(খ) শিল্প বিপ্লবের প্রয়ােজনে ইংরেজরা এই দেশকে কাঁচামাল সরবরাহকারীতে পরিণত করলে এই দেশের শিল্পব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দেশীয় বণিক , কারিগর ও শ্রমিকরা ক্রমশই দরিদ্র হতে থাকে ।

(গ) ইংরেজি ভাষার প্রাধান্যের ফলে দেশীয় ভাষায় শিক্ষিত মানুষের জীবিকা অর্জনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় ।

(ঘ) নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ার ফলে জনসাধারণের ওপর বিরাট কর চাপানাে হয় , এর ফলে তাদের অবস্থা শােচনীয় হয়ে উঠেছিল ।

[ ৩ ] সামাজিক কারণ (Social cause of Indian rebellion of 1857):

বিভিন্ন সামাজিক কারণে ভারতবাসী অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইংরেজদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শাসক ও শাসিতের মধ্যে বিরাট ব্যবধান সৃষ্টি করেছিল । ফলত ভারতীয়রা তাদের কোনাে দিনই শাসক বলে মেনে নেয় নি । প্রসঙ্গত রাসেল স্পষ্টতই বলেছেন , “The population of the country had no love for us”.

এছাড়া রেলপথ বিস্তার , টেলিগ্রাফের প্রচলন এইসব পদক্ষেপকে তারা ইংরেজদের ষড়যন্ত বলে ধরে নেয় । এর ফলে ইংরেজদের সঙ্গে ভারতবাসীর ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকে ।

[ 4 ] ধর্মীয় কারণ (Religious cause of Indian rebellion of 1857):

ইংরেজরা ভারতে ক্ষমতা দখল করার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশে খ্রিস্টান মিশনারীরা এসেছিলেন । এই মিশনারীরা হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালান । স্বভাবতই ভারতীয় জনসাধারণের একটি বড়াে অংশ ব্রিটিশের প্রতি সন্দিহান হয়ে ওঠে । তারা সতীদাহ নিবারণ , বিধবা বিবাহের প্রচলন এইসব সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিসন্ধি বলে মনে করতে থাকে । যুদ্ধের প্রয়ােজনে সমুদ্র যাত্রার আদেশ দেশীয় সিপাহীদের ধর্মভাবকে আঘাত করায় ক্রমশ তারা অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে ।

[ ৫ ] সামরিক কারণ (Military cause of Indian rebellion of 1857):

সামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করার ফলে ভারতীয় সিপাহিরা ক্রমশই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিল । ইংরেজ সিপাহিদের তুলনায় ভারতীয় সিপাহিরা বেতন কম পেত । অভিজ্ঞ ভারতীয় সামরিক কর্মচারীর বদলে অনভিজ্ঞ ইংরেজ কর্মচারীরা পদোন্নতি লাভ করত । এছাড়া ইংরেজ অফিসাররা ভারতীয় সিপাহিদের সঙ্গে ঔদ্ধত ও অপমানজনক ব্যবহার করতেন । ফলে , দেশীয় সিপাহিরা ক্রমশই ইংরেজদের প্রতি শ্রদ্ধা হারাতে থাকে এবং ব্রিটিশ শাসনের ওপর তাদের ঘৃণা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে ।

মহাবিদ্রোহ
মহাবিদ্রোহ

[ ৬ ] প্রত্যক্ষ কারণ (Direct cause of Indian rebellion of 1857):

এইভাবে বিভিন্ন কারণে ভারতবাসীর ক্ষোভ যখন পুঞ্জীভূত হতে লাগল , তখন এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন এই বিদ্রোহের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল । এই রাইফেলের কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হত । গুজব রটে গেল যে , এই কার্তুজে গােরু ও শূয়ােরের চর্বি মিশানাে হয়েছে , ফলে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের ধর্মনাশের সম্ভাবনা রয়েছে । ক্রমে এই বিদ্রোহের আগুন সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ল । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে( Indian rebellion of 1857) ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে নামে একজন সিপাহি এক ইংরেজ অফিসারকে হত্যা করলে মহাবিদ্রোহের সূচনা হয় ।

মহাবিদ্রোহের সূত্রপাত ও বিস্তার (Initiation and spread of Indian rebellion of 1857) :

[ ১ ] বিদ্রোহের সূত্রপাত : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং – এর আমলে কলকাতার ১২ মাইল উত্তরে ব্যারাকপুরে মহাবিদ্রোহের সূত্রপাত হয় । মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সৈনিক চর্বি মেশানাে কার্তুজের জন্য ক্রুদ্ধ হয়ে তার উর্ধ্বতন ইংরেজ অফিসারকে আক্রমণ করেন এবং ২৯ শে মার্চ বিচারে তার ফাসি হয় ।

[ ২ ] বিদ্রোহের বিস্তার : এই বিদ্রোহের সংবাদ লক্ষ্মৌ ক্যান্টনমেন্টে পৌছালে সেখানকার সিপাহিরাও বিদ্রোহে যােগদান করে । লক্ষ্ণৌ থেকে এই বিদ্রোহের আগুন মীরাটে প্রসারিত হয় । সেখানে চর্বি মেশানাে কার্তুজ ও পশুর হাড় মেশানাে আটার জনরবে উত্তেজিত হয়ে সিপাহিরা বিদ্রোহী হয় । তারা হত্যাকাণ্ডও লুঠতরাজ চালায় এবং কারাগার থেকে বন্দি সিপাহিদের মুক্ত করে ১১ ই মে দিল্লি এসে পৌঁছায় । সিপাহিরা মােগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরােধ করলে , তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেন । সিপাহিরা তাঁকে হিন্দুস্থানের সম্রাট বলে ঘােষণা করে । দিল্লিতে সিপাহিরা স্ত্রী – পুরুষ – শিশু নির্বিচারে ইংরেজদের হত্যা করে । এরপর গাঙ্গেয় প্রদেশগুলিতে ও মধ্যভারতে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে । ফিরােজপুর , মুজফফর নগর ও আলিগড়ের সিপাহিরা বিদ্রোহী হয় । এরপর পঞ্জাবের অন্তর্গত নৌসেরা ও হতমানেও বিদ্রোহ সংক্রামিত হয় ।

অযােধ্যা ও উত্তরপ্রদেশের নানা অঞলে এই বিদ্রোহ তীব্র আকার ধারণ করে । অযােধ্যার সম্পত্তিচ্যুত তালুকদাররাবিদ্রোহে যােগ দেন । ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অযােধ্যার কৃষকদেরও প্রচুর অভিযােগ ছিল । সুতরাং তারাও তালুকদারদের সঙ্গে বিদ্রোহে যােগ দেয় । রােহিলাখণ্ডের পূর্বতন সর্দাররা বিদ্রোহে যােগ দেন । এঁদের মধ্যে বেরিলির খান বাহাদুর , নাজিরাবাদের মহম্মদ খ ) , গোরখপুরের মহম্মদ হাসান প্রমুখের নাম করা যায় । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ( Indian rebellion of 1857) নভেম্বর মাসে বাংলার চট্টগ্রামের সিপাহি বিদ্রোহী হয় । কিন্তু সেখানে জনসাধারণের সমর্থন না পাওয়ায় সিপাহিরা পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় । ব্রিদ্রোহের সময় দক্ষিণ ভারতের শান্তি এক রকম অক্ষুন্নই ছিল , যদিও সেখানকার সিপাহিদের মধ্যে উত্তেজনার অভাব ছিল না । রাজস্থানেও বিদ্রোহ সংক্রামিত হয় । কিন্তু রাজপুত শাসকদের । কেউ কেউ ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকায় সেখানে বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারেনি ।

[ ৩ ] বিদ্রোহ দমন : বিদ্রোহের প্রথমদিকে ব্রিটিশ সেনাপতিদের অপ্রস্তুতির জন্য ব্রিটিশদের একের পর এক পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল । কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাপতিদের কর্মদক্ষতায় এবং একাধিক দেশীয় রাজাদের সহযােগিতায় বিদ্রোহ দমন করা সহজ হয় । প্রথমেই জন লরেন্স দিল্লি পুনরুদ্ধার করেন । সেই সময় সেখানে বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে ছিলেন বক্ত খাঁ , তিনি বেরিলির বিদ্রোহী সিপাহিদের পরিচালনা করে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন । হাডসন নামে এক ইংরাজ সেনাপতি হুমায়ুনের কবরে লুকিয়ে থাকা বৃদ্ধ মােগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে সেখান থেকে বের করে আনেন । এরপর তাকে বন্দি করে রেঙ্গগুনে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং তার দুই পুত্র ও পৌত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় । এইভাবে মােগল রাজবংশের অবসান হয় ।

লক্ষ্মেী – এর বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন অযােধ্যার নবাবের বেগম । তার শিশুপুত্রকে তিনি নবাব হিসাবে ঘােষণা করেন । সিপাহিরা ও জনসাধারণ অযােধ্যা তথা লক্ষৌকে দীর্ঘদিন ইংরেজদের কবল থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে । অল্পসংখ্যক ইংরেজ সেনা হেনরী লরেন্সের নেতৃত্বে লক্ষে রেসিডেন্সিতে হাতাহাতি লড়াই করে আত্মরক্ষা করেন এবং পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধ চলার পর অবশেষে ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার কলিন ক্যাম্ববেল লক্ষৌ দখল করেন । কানপুরে বিদ্রোহীদের নেতা ছিলেন নানা সাহেব । তিনি কিছুদিনের জন্য কানপুর থেকে ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন এবং নিজেকে পেশােয়া বলে ঘােষণা করেন । সেই সঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট বলে ঘােষণা করেন । নানা সাহেব কানপুরে বেশ কিছু ইংরেজ নারী ও শিশুকে বন্দি করে রেখেছিলেন । শেষ পর্যন্ত ইংরেজ সেনাপতি হ্যাবলকের আগমনের সংবাদ পেয়ে নানাসাহেব কানপুর থেকে পালিয়ে গিয়ে নেপালে আশ্রয় নেন । কোনাে অজ্ঞাত স্থানে তার মৃত্যু হয় ।

মধ্যভারতে ও বুন্দেলখণ্ডে বিদ্রোহীদের পরিচালনা করেছিলেন ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ ও নানাসাহেবের বিশ্বস্ত অনুচর তাঁতিয়া তােপী । স্যার হিউরােজ ঝাসি রানিকে বিদ্রোহীদের নেতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেছেন । কানপুরে বিদ্রোহী সিপাহিদের অন্যতম নেতা হিসাবে তাঁতিয়া তােপী প্রথম পরিচিত হন । নানাসাহেব পালিয়ে গেলে তাতিয়া কানপুর আবার দখল করেন । এরপর তিনি চিরকারি দখল করে আঁসির রানির পাশে এসে দাঁড়ান । স্যার হিউরােজ তাতিয়াকে পরাস্ত করে সগল ও ঝাসি পুনরাধিকার করেন । কঁসির রানি ও তাতিয়া তােপী একযােগে হিউরােজকে আক্রমণ করেন । রানি বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু বরণ করেন । তাতিয়াতােগী পলায়ন করেন , কিন্তু শীঘ্রই তিনি ধরা পড়ে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন ।

বিহারে বিদ্রোহের শ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন কুনওয়ার সিং ও অমর সিং । কুনওয়ার সিং ছিলেন বিহারের অন্তর্গত জগদীশপুরের এক সর্বস্বান্ত জমিদার । এই অঞ্চলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় । কুনওয়ার সিং বিহারে ইংরেজদের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ করেন এবং পরে নানা সাহেবের দলের সঙ্গে যােগ দেন । আরা জেলায় ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে তিনি আঘাত পান এবং তার মৃত্যু হয় । ফৈজাবাদের মৌলবী আহমদ – উল্লাছিলেন বিদ্রোহীদের আর এক নেতা । লক্ষ্মৌতে ইংরেজদের কাছে পরাস্ত হলে , আহমদ – উল্লা রােহিলখণ্ডে বিদ্রোহ পরিচালনা করেন । ইংরেজ ঐতিহাসিকরা আহমদ – উল্লার স্বদেশপ্রেম , নির্ভীকতা ও সামরিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন । কিন্তু একজন স্বদেশবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় আহমদ – উল্লার প্রাণনাশ হয়।এইভাবে বিদ্রোহী নেতারা একে একে পরাস্ত ও নিহত হলে বিদ্রোহ প্রশমিত হয় ও ১৮৫৮ সালের ৮ জুলাই সর্বত্র শান্তি ঘােষণা করা হয়।

[ ৪ ] মহাবিদ্রোহে জনগণের ভূমিকা : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সিপাহিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিদ্রোহ । উত্তর ও মধ্যভারতের সিপাহিদের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে সাধারণ মানুষ ঢাল , তলােয়ার , কুঠার , তীর – ধনুক নিয়ে সিপাহিদের দলে যােগ দেয় । সেই সঙ্গে অসংখ্য কৃষক , শিল্পী ও কারিগর বিদ্রোহে যােগ দিতে তা গণঅভ্যুত্থানের চেহারা নেয় । প্রকৃতপক্ষে , বিদ্রোহী সিপাহিদের প্রতি জনসাধারণের সহানুভূতি ও তাদের বিক্ষোভ এক উত্তাল তরঙ্গের সৃষ্টি করেছিল । বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে ইংরেজরা যে নির্মমতার ও জঘন্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল , তা থেকে মহাবিদ্রোহের জনপ্রিয়তার আভাস পাওয়া যায় ।

[ ৫ ] মহাবিদ্রোহের সময় হিন্দু মুসলিম ঐক্য : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মহাবিদ্রোহের হিন্দু মুসলমান । ঐক্য সহজেই চোখে পড়ে । বস্তুত উভয় সম্প্রদায়ের মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বিদ্রোহ এত তীব্র আকার ধারণ করেছিল । এই বিদ্রোহে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বৃদ্ধ সম্রাট বাহাদুর শাহকে নেতা বলে স্বীকার করতে আপত্তি করেননি । তিনি ছিলেন উভয় সম্প্রদায়ের মিলিত স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক।

এমনকি নানান অসুবিধা সত্ত্বেও নানাসাহেব তার প্রতি আনুগত্য জানান । বিদ্রোহে নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন । স্বয়ং বাহাদুর শাহ উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নানাভাবে যােগাযােগ রক্ষা করতেন । ঝাঁসীর রানি লক্ষ্মী , তাতিয়াটোপি ছাড়াও দিল্লির বরকত খা , বেরিলির খান বাহাদুর , গােরখপুরের মহম্মদ হাসান , অযােধ্যার বিরাজিস কাদির প্রমুখ নেতৃবর্গ উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । এই ঐক্য ও সম্প্রীতির অন্যতম দৃষ্টান্ত হল , যেখানেই বিদ্রোহ সফল হয় সেখানেই গাে হত্যা বন্ধ করা হয়েছিল । নানান ক্ষেত্রে উভয় সম্প্রদায়ের এই ঐক্য দেখে শাসকবর্গও হতবাক হয়ে যান । প্রসঙ্গত এচিসন বলেছেন যে , এই বিদ্রোহের সময় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

[ ৬ ] মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি :

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে বাদানুবাদের অন্ত নেই । বিদ্রোহের সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে নানা ধরনের মতামত উত্থাপিত হয়েছে । উত্থাপিত এই মতামতগুলি ব্যাখ্যাকালে যে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় তাহল,

এই বিদ্রোহ কি নিছক সিপাহী বিদ্রোহ ?

এই বিদ্রোহ কী জাতীয় বিদ্রোহের মর্যাদা পেতে পারে ?

আলােচনার সুবিধার্থে এই মতামতগুলিকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায় , যেমন :

প্রথম মতামতঃ

ম্যালেসন , জন কে , স্যার জন লরেন্স , রবাটর্স প্রমুখ ইংরেজ ঐতিহাসিকরা সিপাহি বিদ্রোহকে নিছক সিপাহি বিদ্রোহ ছাড়া আর কিছু মনে করেন না । সমসাময়িক ভারতীয় লেখক স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ , দূর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার এই বিদ্রোহকে ‘ সিপাহি ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহ বলে মনে করেছেন। তাঁদের এই মনে করার স্বপক্ষে তারা কয়েকটি যুক্তি আরােপ করেছেন , যেমন :

প্রথমত , সিপাহিদের অসন্তোষের ফলেই এই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল , যদিও এর পিছনে কোনাে সুনির্দিষ্ট পূর্বপরিকল্পনা ছিল না ।

দ্বিতীয়ত , দেশের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে এই অভ্যুত্থানের প্রসার ঘটেনি ।

তৃতীয়ত , এই অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক ছিল না , প্রকৃতপক্ষে তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যই বড়াে হয়ে দেখা দিয়েছিল । সেই কারণেই এই বিদ্রোহকে গণবিদ্রোহ বা স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে স্বীকার করা যায় না।

চতুর্থত , এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সিপাহি বিদ্রোহের শতবর্ষকালে ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার তথ্য প্রমাণসহ জোরালাে ভাষায় বলেছেন — কোথাও কোথাও কৃষক শ্রেণি সক্রিয়ভাবে বিদ্রোহের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে খানিকটা জাতীয় আন্দোলনের রূপ পেলেও এই বিদ্রোহ মূলত ছিল সিপাহি বিদ্রোহ । এই বিদ্রোহকে জাতীয় অভ্যুত্থান বলে তিনি মনে করেন না । তার ভাষায় “The so called First National war of Independence in 1857 is nither First , Nor national , nor a war of independence”

দ্বিতীয় মত :

জে . বি . নর্টন , আলেকজান্ডার , ডাফ , হােমস প্রমুখ ঐতিহাসিকের ধারণা হল এই যে , প্রথমে সিপাহিদের মধ্যে শুরু হলেও ক্রমশ এই বিদ্রোহ এক জাতীয়বিদ্রোহের রূপ ধারণ করে । পরবর্তীকালে বিনায়ক দামােদর সাভারকর ও ডঃ সুরেন্দ্রনাথ সেন ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহকে (Indian rebellion of 1857) ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে অভিনন্দিত করেছেন ।

জাতীয় বিদ্রোহের সমর্থনে তারা নিম্নোক্ত যুক্তির অবতারণা করেছেন , যেমন :

প্রথমত, জাতীয় বিদ্রোহ বলার আগে জাতীয়তাবাদ কাকে বলে তা আলােচনা করা প্রয়ােজন । বস্তুত জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা বা ধারণা যুগে যুগে পরিবর্তিত হচ্ছে । সেই অর্থে বিদেশি শাসন থেকে মুক্তিলাভের জন্য গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানকে জাতীয় সংগ্রাম বলাই যুক্তিযুক্ত ।

দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী বিদ্রোহগুলির তুলনায় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের অভূত্থানের ব্যাপকতা ও গণসমর্থন ছিল প্রবল । কেবল গণসমর্থনই নয় , এই ধরনের গণ – অংশগ্রহণও পূর্ববর্তী অভ্যুত্থানগুলিতে ছিল না ।

তৃতীয়ত, উপরিউক্ত বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ডঃ সেন স্পষ্টতই বলেছেন যে , দিল্লির বাহাদুরশাহকে সম্রাট ঘােষণা করায় সিপাহিদের বিদ্রোহ একটি রাজনৈতিক চরিত্র পায় , যা কেবলমাত্র ধর্মীয় স্বাধীনতার যুদ্ধ হিসাবে আরম্ভ হয়েছিল তা পরিণত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধে । পরিশেষে বলা যায় যে , একটি দেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশের সমস্ত মানুষ অংশ নেবে একথা আশা করা উচিত নয় । ইতালীর মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ ইতালীর অনেকে যােগদান না করলেও ওই সংগ্রাম ইতালীর মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত । এই বিদ্রোহে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যােগদান করেছিল এবং বহু বিদ্রোহের সমাবেশ ঘটায় তা ছিল এক মহাবিদ্রোহ ।

তৃতীয় মত :

বামপন্থী চিন্তাবিদ রজনীপাম দত্ত এই বিদ্রোহকে রক্ষণশীল ও সামন্ততান্ত্রিক শক্তিগুলির অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন । জওহরলাল নেহরুও তাঁর রচিত—” Discovery of India” গ্রন্থে এই বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রের কথা ব্যক্ত করেছেন ।

কিন্তু মার্কসবাদী ঐতিহাসিক অধ্যাপক হিরেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় ও অধ্যাপক সুশােভন সরকার সিপাহি বিদ্রোহকে স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম বলেই অভিহিত করেছেন । স্বয়ং কালমার্কসও অনুরূপ মত পােষণ করতেন । পরিশেষে বলা যায় যে , ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় ভারতে আধুনিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ গড়ে ওঠেনি । ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল এই বিদ্রোহের আওতা থেকে বাইরে ছিল এবং শিখ , রাজপূত , গােখা প্রভৃতি সম্প্রদায় এই বিদ্রোহে অংশ নেয়নি ।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ(Indian rebellion of 1857) সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের পরস্পর বিরােধী মতামত বিশ্লেষণের শেষে একথা বলা যায় যে , এই বিদ্রোহ প্রসঙ্গে কোনও বিশেষ মতামতটি পুরােপুরি গ্রহণযােগ্য বা ভিত্তিহীন বলা যায় না । আসলে প্রত্যেকটি মতের মধ্যেই কিছু না কিছু সত্যি উন্মােচিত হয়েছে । তবে এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক বেলী (C. A. Bayly ) বলেছেন

“১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ কেবলমাত্র একটি আন্দোলন নয় । এটাকে কৃষকবিদ্রোহ বলা যেতে পারেঅথবা জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম বা অন্য কিছু”।

এই মন্তব্যের ভিত্তিতে এই বির্তকের বুকে যবনিকা টানাই বাঞ্চনীয় ।

মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের মানচিত্র
মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের মানচিত্র

[ ৭ ] মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ (The reason for the failure of Indian rebellion of 1857):

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত নানান ক্ষোভ ও অসন্তোষকে কেন্দ্র করেই ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের(Indian rebellion of 1857) বিদ্রোহের সূচনা হয় । বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর সমর্থন , জনগণের সক্রিয় সমর্থন ও সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও মহাবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় । মহাবিদ্রোহের এই ব্যর্থতার মূলে একাধিক কারণ ছিল , যথা ;

( ক ) পরিকল্পনার অভাব :

বিদ্রোহের কোনও সুগঠিত পরিকল্পনা না থাকায় প্রথম থেকেই এর সাফল্যলাভের সম্ভাবনা ছিল না । সিপাহি বা জনগণের নিকট নেতৃবর্গ কোনও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরতে পারেন নি । বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ সংগঠিত হওয়ায় বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ প্রশাসনের বিশেষ অসুবিধা হয়নি ।

( খ ) বিদ্রোহের সীমাবদ্ধতা :

ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্রোহ প্রসারিত হলেও , তা কিন্তু মূলত উত্তর ও মধ্য ভারতের বিহার , দিল্লি , উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল ; ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহের বিশেষ কোনাে প্রতিক্রিয়া ছিল না । ভারতের সমস্ত অঞলে বিদ্রোহ না হওয়ায় কোম্পানি শান্তিপূর্ণ অঞল থেকে সৈন্য সরিয়ে তা অন্যত্র বিদ্রোহ দমনে নিয়ােজিত করে ।

( গ ) বিভিন্ন জাতি ও দেশীয় রাজাদের বিরােধিতা :

ভারতের বিভিন্ন জাতি ও দেশীয় রাজারা বিদ্রোহের বিরােধিতা করে ব্রিটিশদের সমর্থন করেন । হায়দ্রাবাদের নিজাম , কাশ্মীরের মহারাজা , সিন্ধিয়া , পাতিয়ালা ও গুর্খা বীর স্যার জঙ্গবাহাদুর প্রভৃতি দেশীয় রাজা ও অসংখ্য ছােটো বড়াে জমিদার বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন ।

( ঘ ) অযােগ্য নেতৃত্ব :

যে – কোনও বড়াে আন্দোলন বা বিদ্রোহের সাফল্য নির্ভর করে । তার সুযােগ্য নেতৃত্বের ওপর । বৃদ্ধ , দুর্বল এবং অযােগ্য সম্রাট বাহাদুর শাহ ছিলেন এই বিদ্রোহের সর্বজন স্বীকৃত নেতা । বস্তৃত এই বিদ্রোহের কোনাে সুযােগ্য অবিসংবাদিত নেতা ছিল না ।

(ঙ)পদ্ধতির অভাব :

বিদ্রোহের সাফল্যের জন্য যে পদ্ধতি বা রণকৌশল গ্রহণ করা প্রয়ােজন , তা অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃবর্গের অজানা ছিল । ত্রুটিপূর্ণ রণকৌশল এবং অযােগ্য সামরিক পদ্ধতিই এই বিদ্রোহকে ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দেয় । অন্যদিকে ব্রিটিশপক্ষে সুযােগ্য ও সামরিক প্রতিভাসম্পন্ন নেতার অভাব ছিল না । ক্যাম্বেল , হ্যাভলক , নীল , আউটরাম প্রভৃতি ব্রিটিশ সেনানায়কদের রণকৌশল সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে ।

( চ ) আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব :

অর্থ , রসদ , সমরােপকরণের দিক দিয়েও বিদ্রোহীরা ব্রিটিশদের সমকক্ষ ছিল না । ভারতীয় সিপাহিরা পুরােনাে আমলের যুদ্ধ পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে তারা ব্রিটিশের কাছে পরাজিত হয় ।

( ছ ) যােগাযােগ ব্যবস্থার দুর্বলতা :

রেলওয়ে ও টেলিগ্রাফ এই দুইটি বিভাগ ইংরেজ প্রশাসনের অধীনে থাকায় বিভিন্ন অঞলের সঙ্গে সংযােগ রক্ষা করে দ্রুত সংবাদ ও সৈন্য ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল , অন্যদিকে ভারতীয়দের এই সুযােগ ছিল না ।

( জ ) সাধারণ মানুষ ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের উপেক্ষা :

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ জনসাধারণের মধ্যে তেমন কোনও উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারেনি , ফলে তা গণবিদ্রোহে রূপান্তরিত হয়নি । এছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত সম্প্রদায় এই বিদ্রোহ সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন ।

মহাবিদ্রোহের অবসানে , ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত শাসন আইন দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ওপর অর্পন করা হয় । এরপর থেকে এই জন্য ভারতের গর্ভনরজেনারেল ভাইসরয় ’ অর্থাৎ রাজপ্রতিনিধি রূপে অভিহিত হয় । লর্ড ক্যানিং ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয়।

আরও পড়ুন : ইংরেজ রাজত্বের ভূমি রাজস্ব নীতি

Leave a Reply