Kazi Nazrul Islam

কাজী নজরুল ইসলাম (The great poet Kazi Nazrul Islam 1899-1976 খ্রিস্টাব্দ) জন্ম ও বংশ পরিচয় ;কাব্য, উপন্যাস, সংগীত চর্চা; বিদ্রোহী নজরুল

Kazi Nazrul Islam : poet Kazi Nazrul Islam is the one who has decorated the seat of Bengali literature by flying the strong flag of rebellion in the field of Bengali literature. Although the strong tone of rebellion is reflected in his poetry, he is also a life-long poet; Humanist poet; Patriotic and romantic poet. However, Kazi Nazrul Islam is especially known in Bengali literature as a rebellious poet.

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (Rebel poet Kazi Nazrul Islam):

আমি চির বিদ্রোহী বীর আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির !

বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে বিদ্রোহের প্রবল ধ্বজা উড়িয়ে যিনি বাংলা সাহিত্যের আসন অলংকৃত করেছেন তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম । বিদ্রোহের প্রবল সুর তাঁর কবিতায় শােনা গেলেও তিনি একই সঙ্গে জীবনবাদী কবি ; মানবতাবাদী কবি ; স্বদেশপ্রেমিক এবং রােম্যান্টিক কবি । তবে বিদ্রোহী কবি হিসেবেই নজরুল বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত ।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বংশপরিচয় ও শিক্ষা (Birth, genealogy and education of Kazi Nazrul Islam):

Kazi Nazrul Islam
Kazi Nazrul Islam

কবি বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ ( ইংরেজি ২৪ মে , ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ ) জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা কাজি ফকির আহম্মদ ; মাতা জাহেদা খাতুন । শৈশব থেকেই তিনি প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে মানুষ হন । প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কবি পারিবারিক অভাব – অনটনের জন্য ভালােভাবে পড়াশােনা করতে পারেননি । তবে ছেলেবেলা থেকেই পাঠ্য বিষয়ের পাশাপাশি আরও নানা বিষয়ে জ্ঞানলাভের চেষ্টা করেছেন । এগারাে বছর বয়সে নজরুল লেটো দলে যােগ দেন । পরে নিজের ইচ্ছাতেই রানিগঞ্জের শিয়ারশােল রাজ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভরতি হন । এখানে কল্লোল গােষ্ঠীর শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়ের সঙ্গে তার বিশেষ পরিচয় হয় । বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় তার মুক্তি নামক কবিতা প্রকাশিত হলে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় । হাফিজ মামুদ আহম্মদ নামে এক ভদ্রলােকের সহায়তায় কবি ‘ ধূমকেতু ‘ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত প্রকাশ করেন । এই পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ আনন্দময়ীর আগমনে’কবিতার জন্য তিনি কারারুদ্ধ হন । মুক্তির পর গিরিবালা দেবীর কন্যা প্রমীলা সেনগুপ্তের সঙ্গে তার a বিবাহ হয় । ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলম্বিয়া গ্রামােফোন কোম্পানিতে চাকরি নেন । এরপর কবির দুঃখময় জীবনের সূচনা । মায়ের মৃত্যু ; সন্তান বুলবুলের মৃত্যু তাকে মুহ্যমান করে। নজরুল বিস্ময়কর সংগীত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এল । ক্ষে সংগীত পরিচালক ছিলেন । তাঁর কবিতা , গান ধীরে ধীরে বেতার , চলচ্চিত্র , নাটক প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে । ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে কবিপত্নীর মৃত্যু হয় । শেষ জীবনে তিনি দুরারােগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং ১৯৭৬ খিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট ঢাকায় ইহলােক ত্যাগ করেন ।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যচর্চা (Kazi Nazrul Islam’s poetry):

নজরুলের কাব্য – কবিতা একই সঙ্গে প্রতিবাদ প্রতিরােধের উচ্চারণ , রােমান্টিক কল্পনাবিলাস ও স্বদেশপ্রেমের নিগূঢ় অভিব্যক্তি । আবার তার শিশু বিষয়ক অনেক কবিতা ( ‘ ঘুম পাড়ানি গান ‘ ; ‘ লিচুচোর ’ , ‘ খুকী ও কাঠবিড়ালী ‘ ) আজও পাঠকের কাছে চমকের বিষয় । নজরুলের প্রতিবাদী কাব্যসম্ভারের মধ্যে — ‘ অগ্নিবীণা ’ ( ১৯২২ ) ; ‘ বিষের বাঁশী ‘ ( ১৯২৪ ) ; সর্বহারা ‘ ( ১৯২৬ ) ; ‘ ভাঙার গান ‘ ( ১৯২৪ ) ; ‘ ফণিমনসা ‘ ( ১৯২৭ ) ; ‘ প্রলয়শিখা ‘ ( ১৯৩০ ) প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখ্য । নজরুলের শিশুমনস্ক কাব্য ‘ ঝিঙে ফুল ’ ( ১৯২৬ ) । আবার ‘ চক্রবাক ( ১৯২৯ ) কাব্যে মানব – মানবীর বেদনা বিশ্ববেদনায় পর্যবসিত হয়েছে । নতুন চাঁদ ‘ ( ১৯৪৫ , মার্চ ) কাব্যে কবির বিদ্রোহ – বিবর্জিত মনােভাবের পরিচয় মেলে ।

১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের জন্ম দেন। এই দুটি হচ্ছে বিদ্রোহী কবিতা ও ভাঙ্গার গান সঙ্গীত। এগুলো বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। বিদ্রোহী কবিতার জন্য নজরুল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। একই সময় রচিত আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে কামাল পাশা– এতে ভারতীয় মুসলিমদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতা সম্বন্ধে নজরুলে দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কবিতা-সংকলন অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা কবিতায় একটি নতুনত্ব সৃষ্টিতে সমর্থ হয়, এর মাধ্যমেই বাংলা কাব্যের জগতে পালাবদল ঘটে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরপর এর কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের সবচেয়ে সাড়া জাগানো কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

“প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, শাত-ইল্‌-আরব, বিদ্রোহী, কামাল পাশা” ইত্যাদি। এগুলো বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তার শিশুতোষ কবিতা বাংলা কবিতায় এনেছে নান্দনিকতা খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু ইত্যাদি তারই প্রমাণ। 

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস চর্চা ও সংগীত চর্চা(Kazi Nazrul Islam’s novel practice and music practice)

বাংলা উপন্যাস চর্চাতেও নজরুল অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন । তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলির মধ্যে বাঁধনহারা ‘ ( ১৯২৯ , আগস্ট ) ; মৃত্যুক্ষুধা ‘ ( জানুয়ারি , ১৯৩০ ) ; ‘ কুহেলিকা ’ ( ১৯৩১ ) প্রভৃতি উল্লেখ্য ।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত চর্চা

বাংলা ছােটোগল্পে নজরুলের প্রতিভার বিকাশ খুব বেশি না হলেও তার ব্যথার দান ‘ ( ১৯২২ ) ; ‘ রিক্তের বেদন ’ ( ১৯২৫) ‘ শিউলি মালা ‘ ( ১৯৩১ ) বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে ।

নাটক রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম(Drama writer Kazi Nazrul Islam):

নজরুল বাল্যকাল থেকে দারিদ্র্যের চাপে বিভিন্ন পেশাদারি কর্মে লিপ্ত হন । কাজেই নাটক রচনা তার কাছে অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় । তার সফল নাটকগুলির মধ্যে ঝিলমিলি (১৯৩০ ) ; ‘ আলেয়া ‘ ( ১৯৩১ ) ; ‘ পুতুলের বিয়ে ’ ( ১৯৩৩ ) ; ‘ মধুমালা ‘ ( ১৯৬০ ) প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য ।

প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম (Essay Kazi Nazrul Islam):

বাংলা প্রবন্ধ জগতেও নজরুলের প্রতিভা অনন্য । তিনি তৎকালীন সামাজিক – অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার অসারত্ব নিয়ে একাধিক প্রবন্ধ রচনা করেন । বিশেষ করে যুগবাণী ‘ ( ১৯২২ ) ; ‘ রাজবন্দীর জবানবন্দী ‘ ( ১৯২৩ ) ; ইন্দ্ৰমঙ্গল ’ ( ১৯২৩ ) ; দুর্দিনের যাত্রী ‘ ( ১৯২৬ ) ; ‘ ধূমকেতু ( ১৯৬১ ) —তার বিখ্যাত প্রবন্ধ ।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীতচর্চা (Kazi Nazrul Islam’s music practice)

গীতিকার , সুরকার এবং গায়ক হিসেবে নজরুল এক অসামান্য প্রতিভার অধিকারী । তিনি বিভিন্ন রাগ – রাগিনী সহযােগে সংগীত রচনা ও চর্চা করেছেন । ঝুমুর , বাউল , গজল , ঠুংরী , কীর্তন , খেয়াল প্রভৃতি বিভিন্ন অঙ্গনে তার যাত্রা । তার প্রেম – সংগীত ; শ্যামাসংগীত , ইসলামি সংগীত অদ্বিতীয় । বুলবুল ’ ( ১৯২৮ ) ; চোখের চাতক ‘ ( ১৯২৯ ) ; ‘ নজরুল গীতিকা ‘ ( ১৯৩০ ) ; ‘ গুলবাগিচা ‘ ( ১৯৩৩ ) ; ‘ গীতিশতদল ‘ ( ১৯৩৪ ) ; ‘ রাঙাজবা ’ ( ১৯৬১ ) তার শ্রেষ্ঠ সংগীত গ্রন্থ । তার শ্রীরামকৃয় , স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক তিনটি গান আজও বাঙালির ভক্তমনকে আবিষ্ট করে— “ জয়তু শ্রীরামকৃয় নমাে মম ; পরমপুরুষ সিদ্ধযােগী মাতৃভক্ত যুগাবতার ; জয় বিবেকানন্দ সন্ন্যাসী বীর চিরগৈরিকধারী ’ ইত্যাদি গানগুলি অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল ।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত চর্চা

১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam) কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ‘হারামণি’, ‘নবরাগমালিকা’ ও ‘গীতিবিচিত্রা’র জন্য তাকে প্রচুর গান লিখতে হতো। ‘হারামণি’ অনুষ্ঠানটি কলকাতা বেতার কেন্দ্রে প্রতি মাসে একবার করে প্রচারিত হতো যেখানে তিনি অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় রাগরাগিণী নিয়ে গান পরিবেশন করতেন। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি কোনো একটি লুপ্তপ্রায় রাগের পরিচিতি দিয়ে সেই রাগের সুরে তার নিজের লেখা নতুন গান পরিবেশন করতেন। এই কাজ করতে গিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম নবাব আলী চৌধুরীর রচনায় ‘ম আরিফুন নাগমাত’ ও ফার্সি ভাষায় রচিত আমীর খসরুর বিভিন্ন বই পড়তেন এবং সেগুলোর সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাগ আয়ত্ত করতেন। এসব হারানো রাগের ওপর তিনি চল্লিশটিরও বেশি গান রচনা করেন। তবে স্বভাবে অগোছালো হওয়ায় নজরুল (Kazi Nazrul Islam) টুকরো কাগজে এসব গান লিখলেও সেগুলো মাসিক ভারতবর্ষের সঙ্গীত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জগৎ ঘটক একটি মোটা বাঁধানো খাতায় স্বরলিপিসহ তুলে রাখতেন। বাংলা গানের দুর্ভাগ্য যে, এই সংকলিত খাতাটি পরবর্তী সময়ে হারিয়ে যায় যার বিজ্ঞপ্তি তিনি সে সময়কালের দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে দিয়েছিলেন কিন্তু সেটি আর পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক রূপে কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam as a journalist):

যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা  মুজফ্‌ফর আহমদ। এখান থেকেই তার সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয়। প্রথম দিকেই মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা,  উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস বাঁধন হারা এবং কবিতা  বোধন, শাত-ইল-আরব, বাদল প্রাতের শরাব, আগমনী, খেয়া-পারের তরণী, কোরবানি, মোহরর্‌ম, ফাতেহা-ই-দোয়াজ্‌দম্‌, এই লেখাগুলো সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কবি ও সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার  মোসলেম ভারত পত্রিকায় তার খেয়া-পারের তরণী এবং  বাদল প্রাতের শরাব কবিতা দুটির প্রশংসা করে একটি সমালোচনা প্রবন্ধ লিখেন। এ থেকেই দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচকদের সাথে নজরুলের (Kazi Nazrul Islam) ঘনিষ্ঠ পরিচয় শুরু হয়। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে  কাজী মোতাহার হোসেন, মোজাম্মেল হক, কাজী আবদুল ওদুদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌, আফজালুল হক প্রমুখের সাথে পরিচয় হয়। তৎকালীন কলকাতার দুটি জনপ্রিয় সাহিত্যিক আসর গজেনদার আড্ডা এবং ভারতীয় আড্ডায়  অংশগ্রহণের সুবাদে পরিচিত হন অতুলপ্রসাদ সেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী,  শিশির ভাদুড়ী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নির্মেলন্দু লাহিড়ী, ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রকুমার রায়, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ওস্তাদ করমতুল্লা খাঁ প্রমুখের সাথে। ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি শান্তিনিকেতনে  যেয়ে রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। কাজী মোতাহার হোসেনের সাথে নজরুলের (Kazi Nazrul Islam) বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই ১২ তারিখে নবযুগ নামক একটি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া শুরু করে। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেরে-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক- এই পত্রিকার মাধ্যমেই কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam) নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন। ঐ বছরই এই পত্রিকায় “মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেন যার জন্য পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং নজরুলের উপর পুলিশের নজরদারী শুরু হয়। যাই হোক সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান। একইসাথে মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন। বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিতা ও সঙ্গীতের চর্চাও চলছিল একাধারে। তখনও তিনি নিজে গান লিখে সুর দিতে শুরু করেননি।

তবে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীতজ্ঞ মোহিনী সেনগুপ্তা  তার কয়েকটি কবিতায় সুর দিয়ে স্বরলিপিসহ পত্রিকায় প্রকাশ করছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে: হয়তো তোমার পাব দেখা, ওরে এ কোন স্নেহ-সুরধুনী– সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম গান প্রকাশিত হয়। 

বিদ্রোহী রূপে কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam as a rebel):

কবি নজরুলের বাল্যজীবনের সংগ্রাম আমাদের কাছে প্রেরণাস্বরূপ। তিনি জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনতরি পাড়ি দিয়ে প্রমাণ করেন— “ তিনি চির উন্নত শির।পরাধীন দেশের বুকে সর্বপ্রকার অন্যায় – অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন , একা রক্ত গভীরভা – ঝরাতে পেরে বড়াে বিষজ্বালা বুকে নিয়ে বিদ্রোহের ঝড় তুলেছেন বাংলা কাব্যে। তিনি লিখেছেন “ রক্ত ঝরাতে পারি না তাে একা। তাই লিখে যাই এ রক্ত – লেখা , বড়াে কথা বড়াে ভাব আসে নাকো মাথায় , বন্ধু , বড়াে দুখে ! ” তাই যেখানেই মানবতার অপমান , মনুষ্যত্বের অবমাননা দেখেছেন সেখানেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। সমকালীন আধুনিক কবিদের মধ্যে তাই তিনি পৃথক মানসিকতার কবি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam) চর্চার পালাবদল হলেও সমকালীন যুগের নিরিখে তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ।

সৈনিক জীবন ত্যাগ করে নজরুল(Kazi Nazrul Islam) বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে বাস করছিলেন। মুজফ্‌ফর আহমদ ছিলেন এদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। এখান থেকেই তাই নজরুলের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ শুরু হয়। মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতি ও বক্তৃতায় অংশ নিতেন। এ সময় থেকেই সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সাথে পরিচিত হন। ১৯১৭ সালে  রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। তার লাঙ্গল ও গণবাণী পত্রিকায় তিনি প্রকাশ করেন  সাম্যবাদী ও সর্বহারা কবিতাগুচ্ছ। এরই সাথে প্রকাশ করেছিলেন কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল-এর অনুবাদ জাগ অনশন বন্দী ওঠ রে যত– তার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় রেড ফ্ল্যাগ-এর অবলম্বনে রচিত রক্তপতাকার গান।

Kazi Nazrul Islam
Kazi Nazrul Islam

তখন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন এবং  মাওলানা মুহাম্মদ আলি ও শওকত আলীর নেতৃত্বে  খিলাফত আন্দোলন- অসহযোগ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজদের বিতারণ। আর খিলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল তুরস্কে মধ্যযুগীয় সামন্ত শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, কারণ এই সমন্বিত সুলতানী শাসন ব্যবস্থার প্রধান তথা তুরস্কের সুলতানকে প্রায় সকল মুসলমানরা মুসলিম বিশ্বের খলিফা জ্ঞান করতো। নজরুল এই দুটি আন্দোলনের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা তথা স্বরাজ অর্জনে বিশ্বাস করতেন যা মহাত্মা গান্ধীর দর্শনের বিপরীত ছিল। আবার মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কের সালতানাত উচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন তুরস্ক গড়ে তোলার আন্দোলনের প্রতি নজরুলের (Kazi Nazrul Islam) সমর্থন ছিল। তারপরও তিনি অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এর কারণ, এই সংগ্রাম দুটি ভারতীয় হিন্দু মুসলমানদের সম্মিলিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

তবে সব দিক বিচারে নজরুল Kazi Nazrul Islam) তার রাষ্ট্রীয় ধ্যান ধারণায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন কামাল পাশার দ্বারা। নজরুল (Kazi Nazrul Islam) ভেবেছিলেন তুরস্কের মুসলমানরা তাদের দেশে যা করতে পেরেছে ভারতীয় উপমহাদেশে কেন তা সম্ভব হবে না? গোড়ামী, রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নজরুলের অবস্থান ছিল কঠোর। আর তার এই অবস্থানের পিছনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল কামাল পাশার। সে হিসেবে তার জীবনের নায়ক ছিলেন কামাল পাশা। নজরুলও তার বিদ্রোহী জীবনে অনুরূপ ভূমিকা পালনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য ১৯২১ সনের সেপ্টেম্বর মাসে মুজফ্‌ফর আহমদ ও নজরুল তালতলা লেনের যে বাসায় ছিলেন সে বাড়িতেই ভারতের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দল গঠিত হয়েছিল। ১৯১৭ সনের রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমেও নজরুল প্রভাবিত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে কখনই এই দলের সদস্য হন নি, যদিও কমরেড মুজফ্‌ফর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আজীবন।

১৯২০ এর দশকের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন। প্রথমে কংগ্রেসে সমর্থন লাভের জন্য তিনি কলকাতা যান। কিন্তু কংগ্রেসের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পেয়ে তিনি একাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। 

তখন দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। নজরুল (Kazi Nazrul Islam) কুমিল্লা থেকে কিছুদিনের জন্য দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে থেকে আবার কুমিল্লা ফিরে যান ১৯ জুনে- এখানে যতদিন ছিলেন ততদিনে তিনি পরিণত হন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীতে। তার মূল কাজ ছিল শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গান গাওয়া। তখনকার সময়ে তার রচিত ও সুরারোপিত গানগুলির মধ্যে রয়েছে

“এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়, আজি রক্ত-নিশি ভোরে/ একি এ শুনি ওরে/ মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে “

এখানে ১৭ দিন থেকে তিনি স্থান পরিবর্তন করেছিলেন। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে আবার কুমিল্লায় ফিরে যান। ২১ নভেম্বর ছিল সমগ্র ভারতব্যাপী হরতাল- এ উপলক্ষে নজরুল আবার পথে নেমে আসেন; অসহযোগ মিছিলের সাথে শহর প্রদক্ষিণ করেন আর গান করেন, “ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী“- নজরুলের এ সময়কার কবিতা, গান ও প্রবন্ধের মধ্যে বিদ্রোহের ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিদ্রোহী  নামক কবিতাটি। বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করে।

পত্রিকার প্রথম পাতার শীর্ষে এই বাণী লিখা থাকতো। পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি নজরুল (Kazi Nazrul Islam) বিচারাধীন বন্দী হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক জবানবন্দি প্রদান করেন। চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে এই জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তার এই জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে  রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে।

উপসংহার

নবযুগে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নজরুল (Kazi Nazrul Islam) বেতারে কাজ করছিলেন। এমন সময়ই অর্থাৎ ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরূপে জানা যায় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে। এরপর তাকে মূলত হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এতে তার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। সেই সময় তাকে ইউরোপে পাঠানো সম্ভব হলে নিউরো সার্জারি করা হত। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। এরপর নজরুল (Kazi Nazrul Islam)পরিবার ভারতে নিভৃত সময় কাটাতে থাকে। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তারা নিভৃতে ছিলেন। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে কবি ও কবিপত্নীকে রাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল নজরুলের আরোগ্যের জন্য গঠিত একটি সংগঠন যার নাম ছিল  নজরুল চিকিৎসা কমিটি, এছাড়া তৎকালীন ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়  সহযোগিতা করেছিলেন। কবি চার মাস রাঁচিতে ছিলেন।

এরপর ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয়। মে ১০ তারিখে লন্ডনের উদ্দেশ্যে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন ছাড়েন। লন্ডন পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন:

 রাসেল ব্রেইন, উইলিয়াম সেজিয়েন্ট এবং ম্যাককিস্ক– তারা তিনবার নজরুলের সাথে দেখা করেন। প্রতিটি সেশনের সময় তারা ২৫০ পাউন্ড করে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। রাসেল ব্রেইনের মতে নজরুলের রোগটি ছিল দুরারোগ্য বলতে গেলে আরোগ্য করা ছিল অসম্ভব। একটি গ্রুপ নির্ণয় করেছিল যে নজরুল “ইনভল্যুশনাল সাইকোসিস” রোগে ভুগছেন। এছাড়া কলকাতায় বসবাসরত ভারতীয় চিকিৎসকরাও আলাদা একটি গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। উভয় গ্রুপই এই ব্যাপারে একমত হয়েছিল যে, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ছিল খুবই অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত। লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন ক্লিনিকে কবির এয়ার এনসেফালোগ্রাফি  নামক এক্স-রে করানো হয়। এতে দেখা যায় তার মস্তিষ্কের  ফ্রন্টাল লোব সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। ড: ম্যাককিস্কের মত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক একটি পদ্ধতি প্রয়োগকে যথোপযুক্ত মনে করেন যার নাম ছিল ম্যাককিস্ক অপারেশন। অবশ্য ড: ব্রেইন এর বিরোধিতা করেছিলেন।

এই সময় নজরুলের মেডিকেল রিপোর্ট ভিয়েনার বিখ্যাত চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পাঠানে হয়েছিল। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রোঁয়েন্টগেন  ম্যাককিস্ক অপারেশনের বিরোধিতা করেন। ভিয়েনার চিকিৎসকরাও এই অপারেশনের ব্যাপারে আপত্তি জানান। তারা সবাই এক্ষেত্রে অন্য আরেকটি পরীক্ষার কথা বলেন যাতে মস্তিষ্কের রক্তবাহগুলির মধ্যে এক্স-রেতে দৃশ্যমান রং ভরে রক্তবাহগুলির ছবি তোলা হয় (সেরিব্রাল অ্যানজিওগ্রাফি)- কবির শুভাকাঙ্খীদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ভিয়েনার চিকিৎসক ডঃ হ্যান্স হফের অধীনে ভর্তি করানো হয়। এই চিকিৎসক নোবেল বিজয়ী চিকিৎসক  জুলিয়াস ওয়েগনারজাউরেগের অন্যতম ছাত্র। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর কবিকে পরীক্ষা করানো হয়। এর ফলাফল থেকে ড. হফ বলেন যে, কবি নিশ্চিতভাবে পিক্‌স ডিজিজ নামক একটি নিউরনঘটিত সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল ও পার্শ্বীয় লোব সঙ্কুচিত হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন বর্তমান অবস্থা থেকে কবিকে আরোগ্য করে তোলা অসম্ভব। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা  ভিয়েনায় নজরুল নামে একটি প্রবন্ধ ছাপায় যার লেখক ছিলেন ডঃ অশোক বাগচি– তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ভিয়েনায় অবস্থান করছিলেন এবং নজরুলের চিকিৎসা সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। যাহোক, ব্রিটিশ চিকিৎসকরা নজরুলের চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের ফি চেয়েছিল যেখানে ইউরোপের অন্য অংশের কোন চিকিৎসকই ফি নেননি। অচিরেই নজরুল ইউরোপ থেকে দেশে ফিরে আসেন। 

নজরুলের কাব্য – কবিতায় , ছন্দে ও গানে কত – না ভাবের দেশে স্বপ্ন – ধূসর মন নিয়ে বিচরণ করেছি , কত না কর্ম – উদ্দীপনায় জেগে উঠেছি । প্রার্থনা করি প্রিয় কবির সৃষ্টি – সম্ভার থেকে জীবনে যেন বঞ্চিত না হই ; জীবনে এমন কোনাে দুঃসময় যেন না আসে যে সময় কবি নজরুলকে আমরা বিস্মৃত হব । মহাশূন্যের মহাকর্মযজ্ঞের অবসানে কবি আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও আমাদের চিরস্মরণীয়।

আরও পডুনঃ চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জীবনী

Leave a Reply