সংক্ষিপ্ত টীকা:- নবান্ন নাটক ও সাজাহান নাটক | Nabanna Natak and Sajahan Natak

Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ নিয়ে এসেছি Nabanna Natak and Sajahan Natak. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে নবান্ন নাটক ও সাজাহান নাটক | Nabanna Natak and Sajahan Natak

Ajjkal

নবান্ন নাটক ও সাজাহান নাটক | Nabanna Natak and Sajahan Natak

■ নবান্ন নাটক:-

উত্তর:: বিজন ভট্টাচার্য ‘নবান্ন’ নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যক্ষেত্রে নূতন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই নাটকে বর্ণিত হয়েছে আমিনপুর গ্রামের সম্পন্ন চাষী প্রধান সমাদ্দারের প্রচলিত সচ্ছন্দ জীবনধারার উপর দুর্ভিক্ষ ও জোতদারদের আঘাত এবং সেই আঘাতে সপরিবারে কলকাতায় এসে ভিখারীর জীবনযাপন। কলকাতার কৃত্রিম নির্দয় জীবন থেকে আবার গ্রামে ফিরে গিয়ে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠা — এই হল নবান্ন নাটকের বিষয়বস্তু। প্রধান, নিরঞ্জন, কুঞ্জ, রাধিকা, হারু প্রভৃতি এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। প্রখ্যাত নাট্য সমালোচকের ভাষায়, “দুর্ভিক্ষপীড়িত কৃষকজীবনের পরিচয় বিজন ভট্টাচার্যের প্রথম নাটিকা ‘জবানবন্দীতে’ পরিস্ফুট হইয়াছিল। কিন্তু সেই সমস্যার গভীরতর রূপের সার্থকতার চিত্র পাইলাম নবান্ন নাটকে।

দীনবন্ধুর ‘নীলদর্পণ’ নাটক নাট্যকারের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফলে রচিত হইয়াছিল, ‘নবান্ন’ -ও তেমনি নাট্যকারের বাস্তব জীবনসংযোগের পরিচয় বহন করে। দীনবন্ধুর মতো বিজন ভট্টাচার্যের নাটকেও অভিজ্ঞতার সহিত তাহাদের হৃদয়ের অপরিসীম সহানুভুতি যুক্ত হইয়াছে। এই অভিজ্ঞতা ও সহানুভূতি মিলনের ফলেই ‘নীলদর্পণের’ মতোই ‘নবান্ন’ সমসাময়িক সমাজের দর্শকদের মনের মধ্যে এতখানি সাড়া জাগাইতে পারিয়াছিল। পঞ্চাশের মন্বন্তরের নিদারুণ বিভীষিকা — সমাজজীবনের শোচনীয় বিপর্যয়, প্রচলিত জীবন মূল্যবোধের পরিবর্তন, পুরাতন প্রথম জীবনের ভাঙন ও নবজীবনের স্বপ্ন নাটকের মধ্যে বাস্তব সত্যের আলোকে উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে। অভাবের সর্বগ্রাহী দাহ ও রক্তক্ষয়ী শোষণ প্রধান সমাদ্দারের পরিবারকে কিভাবে মাটির স্নেহময় কোমল হইতে শহরের পাষাণ পথে বাস্তব জীবযাত্রার ক্ষেত্রে টানিয়া আনিল, এবং আমিনপুরের হতভাগ্য কৃষকদিগকে কিভাবে দিশেহারা সর্বনাশের অন্ধকারে নিক্ষেপ করিয়া দিল নাট্যকার তাহা সুনিপুণভাবে ফুটাইয়া তুলিয়াছেন।”

‘নবান্ন’ নাটকে প্রধান সমাদ্দার, কুঞ্জ, নিরঞ্জন, দয়াল, হারুদত্ত, পঞ্চালনী, রাধিকা; বিনোদিনী প্রভৃতি চরিত্র গ্রামজীবনের যথার্থ প্রতিনিধি। এই নাটকে যেমন সমকালের ভয়াল ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তেমনি গ্রামের আনন্দ উৎসবের চিত্রও প্রকাশিত। কলকাতার ধনী গৃহে বিবাহ বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানের আর্ত চিৎকার দুর্ভিক্ষের সুস্পষ্ট চিত্র– “আর কত চেঁচাব বাবু দুটো ভাতের জন্যে। তোমরা কি সব বধির হয়ে গেছ বাবু কিছু কানে শোন না ? অন্তর কি সব তোমাদের পাষাণ হয়ে গেছে বাবু— কিছু কানে শোন না ? ও বাবারা – বাবু — কত অন্ন তোমাদের রাস্তায় ছড়াছড়ি যাচ্ছে বাবু, আর এই বুড়ো মানুষটারে এক মুঠো অন্ন দিতে তোমাদের মন সরে না বাবু। বাবু, তোমাদের কি প্রাণ নেই বাবু।

■ সাজাহান নাটক:-

উত্তর:: ‘সাজাহান’ নাটক দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা। এই ঐতিহাসিক নাটক ১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই নাটকে মোঘল সম্রাট সাজাহানের পারিবারিক বিপর্যয়ের কাহিনী বলা হয়েছে। সাজাহান, দারা, মোরাদ, ঔরংজীব, সুজা, পিয়ারা, নাদিরা প্রমুখ এই নাটকের বিশিষ্ট চরিত্র। ‘সাজাহান’ দ্বিজেন্দ্রলালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক নাটক। এই নাটকে সম্রাট সাহাজাহানের জীবন নাট্যের করুণ ট্র্যাজেডি দেখানো হয়েছে তাঁর শোচনীয় বন্দীদশার মধ্যে।

এখানে সাজাহানের পিতৃসত্তা ও সম্রাটসত্তার সুন্দর চিত্র অংকিত হয়েছে। সুজা, মোরাদ ও ঔরঙ্গজীবের বিদ্রোহের খবর পেয়ে সাজাহান বিচলিত। কন্যা জাহানারা তাদের শাসন করতে বললে সাজাহান বলেন— “আমার হৃদয় এক শাসন জানে। সে শুধু স্নেহের শাসন। বেচারী মাতৃহারা পুত্রকন্যারা আমার। তাদের শাসন করব কোন প্রাণে জাহানারা ? ওই চেয়ে দেখ — ঐ স্ফটিকে গঠিত ঐ তাজমহলের দিকে চেয়ে দেখ তারপর বলিস তাদের শাসন কৰ্ত্তে। ”নাটকের শেষে দেখা যায় সাজাহানের এই অন্ধ স্নেহই তার বন্দীত্বের কারণ হয়েছে।

ঔরঙ্গজীবের হাতে বন্দী হয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বলেছেন— “কার সাধ্য দারাকে হত্যা করে ? আমি সম্রাট সাজাহান, আমি স্বয়ং তাকে পাহারা দিচ্ছি। কার সাধ্য ? ঔরঙ্গজীব ? তুচ্ছ। আমি যদি চোখ রাঙাই, ঔরঙ্গজীব ভয়ে কাঁপবে। আমি যদি বলি ঝড় উঠুক, ত ঝড় উঠে, যদি বলি যে বাজ পড়ুক ত বাজ পড়ে।” এই নাটকে ঔরঙ্গজীব, দারা, মোরাদ, সুজা, জাহানারা, দিলদার, নাদিরা প্রভৃতি চরিত্র আপন আপন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।

Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।