সংক্ষিপ্ত টীকা:- নীলদর্পণ নাটক, ডাকঘর নাটক | Niladarpan Nataka, Dakaghara Nataka

Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ নিয়ে এসেছি নীলদর্পণ নাটক, ডাকঘর নাটক | Niladarpan Nataka, Dakaghara Nataka. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে নীলদর্পণ নাটক, ডাকঘর নাটক | Niladarpan Nataka, Dakaghara Nataka

Ajjkal

নীলদর্পণ নাটক, ডাকঘর নাটক | Niladarpan Nataka, Dakaghara Nataka

■ নীলদর্পণ নাটক:-

উত্তর:: দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০)। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নাটকও বটে। নাটকখানি সমাজের বাস্তব সমস্যা নিয়ে রচিত এক অসাধারণ নাটক। “এর সঙ্গে নাট্য সাহিত্য, নাটমঞ্চ, স্বাদেশিকতা, নীল আন্দোলন, সমাজ দর্পণ প্রভৃতির ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে।

প্রথম নাটকেই তিনি অসাধারণ খ্যাতির অধিকারী হন — যদিও অনেকেই তাঁর নাম জানতেন না, কারণ এই নাটকে তিনি ছদ্মনামের আড়ালে আত্মগোপন করেছিলেন। এই নাটকে বাঙালী কৃষক ও ভদ্রলোকের প্রতি নীলকর সাহেবদের অমানুষিক অত্যাচার বর্ণিত হয়েছে। গোপনে গোপনে মধুসূদন এর অনুবাদ করেন। তাতেও তাঁর নাম ছিল না, শুধু প্রকাশক হিসাবে লঙ সাহেবের নাম ছিল। ফলে লঙ সাহেবের জরিমানা ও কারাবাস হয়। দীনবন্ধু মিত্র “নীলদর্পণ” নাটকে সমকালীন সমাজ সমস্যার এক নিখুঁত বাস্তব রূপ তুলে ধরেছেন। নীলকরদের অত্যাচারে এককালে বাংলাদেশের চাষীদের জীবনে যে সর্বনাশা দুঃখের আবর্ত সৃষ্টি হয়েছিল, বাংলার চাষীরা যেভাবে নীলচাষ করতে বাধ্য হত, এই নাটকখানি তার বিশদ ও বাস্তব বর্ণনার নিখুঁত চিত্র। এই নাটকে মৌন মূক অসহায় মানুষের ভাষা রূপ পেয়েছে। নীলকর সাহেবদের নির্যাতন নিপীড়নে সম্পন্ন গৃহস্থের গৃহসংসার কেমন করে একেবারে বিনষ্ট হয়ে যায়, এ নাটকে তাই দেখানো হয়েছে। ‘নীলদর্পণ’ নাটকে গ্রামে দরিদ্র ও পীড়িতদের মর্মবেদনা সুচারুরূপে ফুটে উঠেছে।

‘নীলদর্পণ’ -এ ইংরাজ নীলকরদের যে অত্যাচার ও পীড়নের জীবন্ত চিত্র আছে, বাংলা সাহিত্যে তেমন দৃষ্টান্ত আর পাওয়া যায় না। দীনবন্ধুর এই নাটকখানি দরিদ্র নীল চাষীদের উপর নীলকরদের অত্যাচার প্রশমিত করার ব্যাপারে খুবই সহায়তা করেছিল। তোরাপঃ ম্যারে ক্যান ফ্যালাস না, মুই নেমোখারামি কত্তি পারবো না ঝে বড়বাবুর জন্যি জাত বাঁচেচে, ঝার হিল্লেয় বসতি কত্তি নেগিচি, ঝে বড় বাবু হলে গোরু বেয়ে নে বেড়াচ্চে, মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে সেই বড় বাবুর বাপকে কয়েক করে দেব ? মুই তো কখনুই পারবো না জান কবুল। প্রথম রাইয়াত – কুঁদির মুখি বাঁহ থাকবে না, শ্যামচাদের ঠ্যালা বড় ঠ্যালা। মোদের চকি বি আর চামড়া নেই, না মোরা বড় বাবুর নুন খাইনি – তা কি করবো কি, সাক্ষী না দিলি যে আস্ত রাখে না উট সাহেব মোর ঝুকি দেড়য়ে উটেনো-দ্যাদিনি, অ্যাকন তবাদি বোজানি দিয়ে পড়দে-গোড়ার পা য্যান বলছে গোরুর খুর।

■ ডাকঘর নাটক:-

উত্তর:: ‘ডাকঘর’ (১৯১২ খ্রীস্টাব্দে) একটি তত্ত্বমূলক নাটক। ‘ডাকঘর’ নাটকে রবীন্দ্রনাথ এই তত্ত্ব প্রচার করেছেন যে অসীমের পিয়াসী মানুষের সুদূরের আকাঙ্ক্ষাকে সংস্কারের গণ্ডীবদ্ধ মানুষ ব্যাধি মনে করে নানা বাধানিষেধ তার উপর চাপিয়ে দেয়, কিন্তু মানুষ সব বাধা কাটিয়ে ভগবানের সঙ্গে মিলিত হয়। সীমার সঙ্গে অসীমের মিলন ব্যক্ত হয়েছে অমলের সঙ্গে রাজার সম্পর্ক স্থাপিত হবার মাধ্যমে। এ নাটকের ভাববস্তু বড়ো চমৎকার। অমল হল মুমুক্ষু মানবাত্মার প্রতীক। সে জীবন-ব্যাধি-জর্জর …. সমাজ সংস্কারের নীতি তার ঊর্ধ্বগতিকে রুদ্ধ করতে চায়। কিন্তু সমস্ত বাধা বন্ধন ছিঁড়ে সে অসীমের বুকে ফিরে যেতে ব্যাকুল। হঠাৎ সে দেখল রাজার ডাকঘর বসেছে।

তখন সে ভাবল, বুঝি রাজা তার নামেও চিঠি পাঠাবেন। তাই অমল বলে— “আমি দেখতে পাচ্ছি রাজার ডাকহরকরা পাহাড়ের উপর থেকে একলা কেবলই নেমে আসছে বাঁ হাতে তার লন্ঠন, কাঁধে তার চিঠির থলি। কতদিন, কত রাত ধরে সে কেবলই নেমে আসছে। ” রাজার আগমন সংবাদে অমলের সব ব্যাধি দূর হয়ে গেছে। রাজকবিরাজকে সে বলেছে— ‘রাজকবিরাজ — অর্ধ্বরাত্রে যখন রাজা আসবেন তখন তুমি বিছানা ছেড়ে উঠে তার সঙ্গে বেরোতে পারবে ? অমল — পারব, আমি পারব। বেরতে পারলে আমি বাঁচি। আমি রাজাকে বলব , ঐ অন্ধকার আকাশে ধ্রুবতারাটিকে দেখিয়ে দাও। আমি সে তারা বোধহয় কতবার দেখেছি, কিন্তু সে যে কোনটা সে তো আমি চিনি নে। অমল ঘুমের মধ্যে রাজার সঙ্গে মিলিত হয়েছে, রাজকবিরাজ বলেছেন— “এইবার তোমরা সকলে স্থির হও। এল, এল, ওর ঘুম এল। আমি বালকের শিয়রের কাছে বসব, ওর ঘুম আসছে। প্রদীপের আলা নিবিয়ে দাও— এখন আকাশের তারা থেকে আলো আসুক , ওর ঘুম এসেছে।”

■ রাজা প্রতাপাদিত্য-চরিত:-

উত্তর:: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত’ প্রথম মুদ্রিত হয়েছিল। “রাজা প্রতাপাদিত্য-চরিত” বাঙালীর লেখা প্রথম গদ্যগ্রন্থ এবং মৌলিক রচনা। রামরাম বসুর রচনার ভাষায় সাহিত্যিক গুণ ছিল না সত্য কিন্তু তিনি কথকথার ভঙ্গিযুক্ত যে ভাষা উদ্ভাবন করেছিলেন তাতে কথ্যরীতির গদ্যের একটা পূর্বসূচনা পাওয়া যায়। রামরামের ভাষারীতির উদাহরণ — “যে কালে দিল্লীর তক্তে হোমাঙু বাদশাহ তখন ছোলেমান ছিলেন কেবল বঙ্গ ও বিহারের নবাব পরে হোমাঙু বাদশাহের ওফাত হইলে হিন্দোস্থানে বাদশাহ হইতে ব্যাজ হইল একারণ হোমাণ্ডু ছিলেন বৃহত গোষ্ঠী …..”

অতিরিক্ত আরবী-ফরাসী শব্দ ব্যবহার রামরাম বসুর ভাষার প্রধান ত্রুটি। অবশ্য এই ধরনের শব্দ তিনি বিশেষ করে মুসলমান আমলের শাসনব্যবস্থা এবং রাজস্ব ব্যবস্থার বিবরণ প্রসঙ্গেই ব্যবহার করেছেন, অন্যত্র প্রধানত খাঁটি বাংলা শব্দই ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছেন। ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘লিপিমালা’ তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ। লিপিমালা পত্রাকারে লিখিত বিভিন্ন প্রবন্ধের সঙ্কলন। ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত’ -এর তুলনায় এর ভাষা অনেক উন্নত। ‘লিপিমালা’ -র ভাষা— “নিজাধিকারে বজ্রপুর পরগণা তোমার অধিকারের সান্নিধ্য চিরকালাবধি এইমত কখনও সীমা সেতুর বাদবিসম্বাদ হইয়া আসিতেছে এবার তোমার প্রস্থ লোকেরা নিজাধিকারের প্রজার উপরে দৌরাত্ম্য করে।

Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।