July 2, 2020
science

Successful of Science in modern life

Science in modern life. Introduction Primitive man first appeared on earth in search of food. Then began the evolution of its constraints and needs. Science was born in an attempt to turn the various objects of nature into its own necessities by a special process. With the change of days, the triumph of science driven by the perseverance of human beings is going everywhere today. Science-based current life: The current era is based on science. So today everyone has involved science with their own lives. We cannot forget the blessings of science in every step of daily life and think of the triumph of life. Human society is moving forward for the welfare of science. The advancement of human civilization depends on the advancement of science.

বিজ্ঞান এবং আমরা (Science and we)


পৃথিবীতে আবির্ভূত আদিম মানুষ অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে প্রথম সন্ধান করে খাদ্যের । তারপর শুরু হয় তার বােধ ও চাহিদার বিবর্তন । বিশেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রকৃতির নানা বস্তুকে নিজের প্রয়ােজনীয় দ্রব্যে পরিণত করার প্রয়াসেই বিজ্ঞানের জন্ম । দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অধ্যবসায়ে পরিচালিত বিজ্ঞানের বিজয়রথ আজ সর্বত্রগামী ।

আধুনিক জীবনে বিজ্ঞান(Science in modern life)

বর্তমান যুগ বিজ্ঞাননির্ভর । তাই আজ বিজ্ঞানকে প্রত্যেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছে । দৈনন্দিন জীবনের প্রতি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের আশীর্বাদকে ভুলে গিয়ে জীবনের জয়যাত্রার কথা আমরা ভাবতেও পারি না । বিজ্ঞানের কল্যাণেই এগিয়ে চলেছে মানবসমাজ । বিজ্ঞানের এগিয়ে চলার ওপর মানবসভ্যতার এগিয়ে চলা নির্ভর করে । তাই বর্তমান জীবনে বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না । মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বিজ্ঞানে সভ্যতা আর বিজ্ঞান প্রায় সমার্থক । মানুষের অসহায়ত্ব একদিন তাকে কৌতূহলী করে তুলেছিল । বিরূপ প্রকৃতিকে কীভাবে বশে আনা যায় , সেই চিন্তাই মানুষকে সভ্যতার সােপানে পৌছে দিয়েছিল । যেদিন মানুষ প্রথম পাথরে পাথরে ঘষা লাগিয়ে আগুন জ্বালাতে শেখে সেদিন থেকেই শুরু হয় বিজ্ঞানের জয়যাত্রা । প্রস্তর যুগ , তাম্রযুগ , লৌহযুগ পেরিয়ে আজ সভ্যতা মহাকাশের যুগে এসে পড়েছে । সভ্যতা আর জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তনশীলতার ধারা অব্যাহত রয়েছে এই বিজ্ঞানের কল্যাণে । বিজ্ঞান এমন এক হাতিয়ার , যাকে মানুষ জীবনের নতুন নতুন ক্ষেত্রে প্রয়ােগ করে সভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে । জীবনধারণের মান উন্নয়নের জন্য নিত্যনতুন উপকরণ সৃষ্টি করেছে ।

প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞানের অবদান(The contribution of science in everyday life)

যে বিজ্ঞান সৃষ্টি হয়েছিল মানুষের আত্মরক্ষা আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রয়ােজনে , আজ তা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের নিত্যসঙ্গী । দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান আজ পরীক্ষিত সত্য । সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি উপকরণ , প্রতিটি উপাদান আজ মানুষ বিজ্ঞানের আশীর্বাদ হিসেবে লাভ করেছে । সকালে ঘুম থেকে উঠে দিন আরম্ভ করা থেকে পুনরায় শয্যাগ্রহণ পর্যন্ত জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ আজ বিজ্ঞান – নিয়ন্ত্রিত । বলা যায় , জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকলে এখন বিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী ।

সুখস্বাচ্ছন্দ্য বিধানে বিজ্ঞান(Science in the provision of happiness and comfort)

দৈনন্দিন জীবনে সর্বক্ষেত্রে আজ মানুষ বিজ্ঞানের দানে ধন্য । গরমে বৈদ্যুতিক পাখার হাওয়া , শীতে উন্নতার ছোঁয়া , কর্মজীবনে ব্যবহারযােগ্য ঘড়ি , জুতাে , কলম , পােশাক – পরিচ্ছদ , গৃহকত্রীর শ্রম লাঘবকারী ফ্রিজ , গ্যাসের উনান , ব্যবসায়ী এবং ছাত্রদের সুবিধার জন্য হিসাবযন্ত্র , যন্ত্রগণক , বৈদ্যুতিক লিফট , গাড়ি চালানাের সুবিধার্থে স্বয়ংক্রিয় নির্দেশ ব্যবস্থা , দ্রুতগামী ভূগর্ভ রেল , বেতার , দূরদর্শ , সংবাদপত্র ইত্যাদি হাজারাে স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ বিজ্ঞানেরই অকুণ্ঠ দান ।

দূরদর্শন

অবসরবিনােদনে বিজ্ঞান(Leisure Recreation Science)

মানুষের খেয়ে – পরে বেঁচে থাকার জৈব জীবনের উর্ধ্বে যে একটি তাৎপর্যময় জীবন আছে , তাকে লালন করার জন্য বিজ্ঞান দিয়েছে বেতার , দূরদর্শন চলচ্চিত্রের মতাে বিনােদন মাধ্যম । কর্মক্লান্ত মানুষ দিনের শেষে এইসব উপকরণ থেকে অবসরবিনােদনের সুযােগ পায় । মুক্তি পায় একঘেয়ে জীবনের অবসাদ থেকে ।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান (Science in medicine)

চিকিৎসাবিজ্ঞানে দ্রুত উন্নতির জন্য মানুষ এখন বহু দুরারােগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাচ্ছে । দৃষ্টিহীন ফিরে পাচ্ছে দৃষ্টিশক্তি ; বধির পাচ্ছে শ্রবণশক্তি । হৃদরােগীর হৃদ্যন্ত্রে পর্যন্ত কৃত্রিম সঞ্চালনযন্ত্র বসিয়ে আধুনিক শল্যচিকিৎসা অসাধ্যসাধন করে চলেছে । একমাত্র দুরারােগ্য ক্যানসার ছাড়া আর প্রায় সব রােগই এখন চিকিৎসায় পরাভূত । অপ্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যায় , কানাডায় কর্মরত ভারতীয় চিকিৎসক বিজ্ঞানী ডক্টর পীযূষকান্তি লালা নাকি কোশ – বিকৃতির কারণ নির্ণয় এবং প্রতিবিধানে প্রায় সাফল্য লাভ করে ক্যান্সার নির্মূল করার পথে অগ্রসর হয়েছেন ।

খাদ্য – উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টিতে বিজ্ঞানের ভূমিকা (The role of science in increasing food production and nutrition)

কৃষিতে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি প্রয়ােগের ফলে পৃথিবীর বহুদেশ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ম্ভরতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে । এ ছাড়া বৈজ্ঞানিক প্রথায় খাদ্যদ্রব্যের পুষ্টি গুণ বাড়িয়ে দরিদ্র , রােগগ্রস্ত , শিশু ও বৃদ্ধদের পুষ্টিবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে । কম খরচে প্রােটিন সমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনে বহু সংস্থা উল্লেখযােগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ।

বিজ্ঞানের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক দিক (Harmful and destructive aspects of science)

ক্ষমতা ও বিজ্ঞানের আবিষ্কার হয়েছিল মানুষের জীবনকে ভয় থেকে মুক্তি দিতে । কিন্তু বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ আজ সভ্যতাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করেছে । একদিকে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক মারণাস্ত্র , অন্যদিকে বিজ্ঞানের সহায়তায় কারখানায় তৈরি হচ্ছে জীবনধ্বংসী ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ । পৃথিবীর শক্তিমান রাষ্ট্রগুলি অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র তৈরির প্রতিযােগিতায় নেমে বিশ্ববাসীকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে । ফলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় মানুষ প্রহর গুণছে ।

ক্ষেপণাস্ত্র

বিজ্ঞানের সার্থকতা প্রতিপাদন ও বিজ্ঞান তাে বিশুদ্ধ জ্ঞানপ্রক্রিয়া মাত্র । তাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর একশ্রেণির ক্ষমতালােভী রাজনৈতিক নেতা পৃথিবীকে নষ্ট করার খেলায় মেতেছেন । বিজ্ঞানকে তারা বন্দি করে রেখেছেন তাদের কুটিল চক্রান্তের কারাগারে । কিন্তু বিজ্ঞানের সার্থকতা মানুষের কল্যাণে । প্রকৃতির নির্দয় অধীনতা থেকে মানুষকে মুক্ত করে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা সূচিতচাকার ব্যবহার । বিজ্ঞানের নিত্যনতুন পথে মানুষ আবিষ্কার করে চলেছে নানা যন্ত্র । বিজ্ঞানের জন্য আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে বৈদ্যুতিক শক্তি , বাম্পশক্তি , যন্ত্রশক্তির । বেতার যন্ত্র ; দূরদর্শন দূরকে করে দিল আরও নিকট । বিজ্ঞানের জন্য দুরারােগ্য ব্যাধির কবল থেকে মানুষ ওষুধের দ্বারা বাঁচতে পারছে । বিজ্ঞানের শুভ কীর্তির জন্য মানুষ ছুটে চলেছে বিভিন্ন গ্রহে ও উপগ্রহে । মুদ্রণযন্ত্র , বেতার , দূরদর্শন সবই বিজ্ঞানের আশীর্বাদস্বরূপ ।

মানবজীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব (The impact of science on human life)

মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বিজ্ঞান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । মানুষের দিনলিপির প্রতিটি পদক্ষেপেই বিজ্ঞান – নির্ভরতা প্রকাশ পায় । তার টুথপেস্ট , ব্রাশ , ফ্যান , হিটার , গ্যাস , কুকার , ফ্রিজ , রেডিয়াে , ঘড়ি , টেলিভিশন এসব কিছুই বিজ্ঞানের দান । কৃষি , শিল্প সবক্ষেত্রেই এই বিজ্ঞানের প্রয়ােগ ও প্রসার লক্ষ করা যায় । ট্রাক্টর , পাম্প প্রভৃতি থেকে শুরু করে । উন্নত বীজ , সার — সবই বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যাণকর ফল । বিজ্ঞানের কল্যাণে শহর ও শহরতলিতে কাঁচামাল পৌছে যাচ্ছে দ্রুতগামী যানবাহনের সাহায্যে । যাতায়াতের সুবিধার জন্য । এসেছে বাস , ট্যাক্সি , ট্রেন , প্লেন , জেটপ্লেন — ইত্যাদি । আজ আর ভূর্জপত্রে কেউ লেখে না । মুদ্রণযন্ত্র তাকে সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত করেছে । দূরভাষে মানুষের বন্ধুত্বের তথা সম্পর্কের বন্ধনকে আরও অটুট করেছে । সৌরজগতের রহস্যও আজ মানুষের কাছে উন্মােচিত হয়েছে । বিজ্ঞানের উন্নতিতে মানুষ দৃঢ়ভাবে প্রতিষেধকের মাধ্যমে প্রতিরােধ করে চলেছে কঠিন ব্যাধিকে ।

অতিরিক্ত বিজ্ঞন – নির্ভরতা (Additional Science – Dependence)

বর্তমান যন্ত্রসভ্যতার যুগে দিন – দিন মানুষ পরিণত হচ্ছে । যন্ত্রে । মানুষ অতিরিক্ত বিজ্ঞান – নির্ভর হয়ে ড়ায় তার জীবনের সুকুমার বৃত্তিগুলােকে সে ভুলতে বসেছে । এই অতিরিক্ত বিজ্ঞান – নির্ভরতা মানুষকে প্রয়ােজনের দাসে পরিণত করেছে । বিজ্ঞানের অভিশপ্ত দিক ও বিজ্ঞান – সভ্যতার এক কলঙ্কময় অধ্যায় হল হিরােশিমা ও নাগাসাকির হত্যাকাণ্ড । উন্নত দেশগুলি পারমাণবিক শক্তিতে উন্নত হয়ে আজ ক্ষুদ্র দেশগুলির ওপর শােষণের রাজনীতি চালাচ্ছে । ডিনামাইট আজ পাহাড় ভাঙার কাজে ব্যবহৃত না হয়ে মানুষ মারার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে । নিত্যনৈমিত্তিক সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে মানুষ ।

যানবাহনের ও কলকারখানার ধোঁয়া

যানবাহনের ধোঁয়া , বর্জ্যপদার্থ আজ প্রকৃতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলেছে । যন্ত্রসভ্যতার যুগে মানুষ যেন নিষ্প্রাণ । যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে । কৃত্রিম জীবনযাপন , মানবিকতার অবনমন আজ আধুনিক বিজ্ঞান – নির্ভর সভ্যতার মস্ত বড়াে অভিশাপ । বিজ্ঞানের অভিশাপ মুক্তি ও বিজ্ঞানকে অভিশপ্ত করার জন্য দায়ী মানুষ । স্বার্থান্বেষী , জ্ঞানপাপী মানুষের অন্তরে যদি শুভবোেধ জাগ্রত না হয় , তবে বিজ্ঞান তাে মন্দের পথে চালিত । হবেই । এর জন্য মানুষকে শুভবােধ দ্বারা জাগ্রত হতে হবে । মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানকে নিয়ােগ করতে হবে । বিজ্ঞান পরিচালককেও শুভবােধ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে তবেই বিজ্ঞান হবে । আশাবাদী মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ । বিজ্ঞানের কল্যাণ কামনায় মানুষের ভূমিকা ও বিজ্ঞানের কল্যাণ কামনায় মানুষের ভূমিকা অনেকখানি । বিজ্ঞান প্রতিটি পদক্ষেপে যেভাবে সুখস্বাচ্ছন্দ্য ও নিশ্চয়তা প্রদানে এবং মানুষের কল্যাণে লিপ্ত তা যেন কোনােভাবেই নষ্ট না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে । জনগণ ও সরকারকে সচেতন হতে হবে ধ্বংসাত্মক কাজে যেন কোনােভাবেই বিজ্ঞানের অপপ্রয়ােগ না হয় । আইনের কঠোরতা বৃদ্ধি করতে হবে । সন্ত্রাসবাদ দমনমূলক কাজে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে । তবেই বিজ্ঞান কল্যাণকামী শক্তিরূপে সকলের কাছে ধরা দেবে ।

আরও পডুনঃ খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

Leave a Reply