সংক্ষিপ্ত টীকা-শর্মিষ্ঠা নাটক, কৃষ্ণকুমারী নাটক | Sharmishta Drama and Krishna Kumari Drama

Hello Students,


Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা,  www.ajjkal.com আজ নিয়ে এসেছি Sharmishta Drama and Krishna Kumari Drama. প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন  CTET | WBTET | WBCS । MPTET | ATET| UPTET | Rajasthan PTET | TNTET | Karnataka TET | RTET | HTET| PSTET। BANK EXAM। ইত্যাদি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই Ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে শর্মিষ্ঠা নাটক, কৃষ্ণকুমারী নাটক | Sharmishta Drama and Krishna Kumari Drama

Ajjkal

শর্মিষ্ঠা নাটক, কৃষ্ণকুমারী নাটক | Sharmishta Drama and Krishna Kumari Drama

■ শর্মিষ্ঠা নাটক:-

উত্তর:: রামনারায়ণ তর্করত্ন অনূদিত সংস্কৃত নাটকের বাংলা অনুবাদ অভিনয় দেখে মধুসূদন নিজেই নাটক রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং মাত্র তিন দিনে মহাভারতের ঘটনা অবলম্বনে ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক রচনা করেন। ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে এই নাটক প্রকাশিত হয়। ‘শর্মিষ্ঠা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক পাশ্চাত্য নীতিসম্পন্ন নাটক। কাহিনী ও রচনায় কোন কোন অংশে কালিদাস রচিত শকুন্তলার প্রভাব থাকলেও রচনাক্রম ও গ্রন্থনপদ্ধতি পুরোপুরি পাশ্চাত্যপন্থী।

তৎকালে এই নাট্যাভিনয় খুব সফল হয়েছিল, এবং এই ধারা অনুসরণ করেই পরবর্তীকালে নাট্য রচনার সূত্রপাত হয়। এই দিক দিয়ে শর্মিষ্ঠা নাটকের বিরাট একটা ঐতিহাসিক মূল্য আছে। ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক শর্মিষ্ঠা, দেবযানী ও যযাতির কাহিনী অবলম্বনে রচিত। পৌরাণিক শর্মিষ্ঠার নবরূপান্তর বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দেবযানী চরিত্র বাস্তবতাযুক্ত ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যময়। এই নাটকে পাশ্চাত্য প্রভাব দেখা যায়। মধুসূদন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও সংস্কৃত নাটকের প্রভাব এড়াতে পারেননি, তাঁর পরিচয় রয়েছে ‘শমিষ্ঠা’ নাটকের ভাবে ও ভাষায়। গদ্য ভাষায় কবিত্বের অতিদীর্ঘতা ও অলংকার বাহুল্য নাট্য কাহিনীকে শিথিল করে তুলেছে।

■ কৃষ্ণকুমারী নাটক:-

উত্তর:: ১৮৬১ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় মধুসূদনের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্যাজেডি নাটক। এই নাটকের কাহিনী গৃহীত হয়েছে কর্নেল টড রচিত Annals and Antiquities of Rajasthan থেকে। কৃষ্ণকুমারী মেবারের রাণা ভীমসিংহের কন্যা। মানসিংহ এবং জয়সিংহ — দুজনেই তাকে বিবাহ করবার জন্য মেবারে উপস্থিত হলেন। কৃষ্ণকুমারীকে যিনি না পাবেন, তিনি মেবার ধ্বংস করবেন।

কন্যাস্নেহ এবং রাজ্যরক্ষা — এই দুয়ের মধ্যে পড়ে ভীমসিংহ অস্থির। তখন আত্মহত্যা করে কৃষ্ণকুমারী পিতা ও রাজ্য রক্ষা করলেন। এই দুর্ঘটনায় ভীমসিংহ উন্মাদ হয়ে গেলেন। রচনা, গ্রন্থনা, দ্বন্দ্ব সংঘাত, সংলাপ ও চরিত্রায়ণে এই নাটকে মধুসূদনের নাট্যপ্রতিভার উৎকর্ষ লক্ষিত হয়। এর মধ্যে গ্রীক নিয়তিবাদ অনুসরণ করা হয়েছে। ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকে মধুসূদন কৃষ্ণকুমারীর মধ্য দিয়ে গাহস্থ জীবন বেদনাকে বড়ো করে দেখিয়েছেন। “কেবল উদয়পুর রাজ্যে রাজকুমারী কৃষ্ণা, তার জননী এবং তপস্বিনীই নয়, জয়পুরে রাজবিলাসিনী বিলাসবতীর মধ্যেও একাগ্র প্রণয়ের নিষ্ঠাপূত আর্তি রোমান্সে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বিলাসবতীর অভিসন্ধিপরায়ণা অনুচরী মদনিকার মধ্যেও নারী স্নেহের একটি কল্যাণ স্নিগ্ধ রূপ অভিব্যঞ্জিত হয়েছে লাঞ্ছিত প্রতিদ্বন্দ্বী ধনদাসের প্রতি সকরুণ ব্যবহারে।

বিলাসিনী নারীর মধ্যে পুরাঙ্গনা সুলভ নিষ্ঠা ও তন্মাত্র প্রেমের রূপায়ণ মধুসূদন আলোচ্য রেনেসাঁস যুগের সমাজ বিপ্লবাদর্শকে বাস্তব অভিব্যক্তি দিয়েছেন। ‘কৃষ্ণকুমারী ’ নাটকের ভাষা অনেক পরিণত ও মর্মস্পর্শী। ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি ট্র্যাজেডি হলেও যথার্থ ট্র্যাজেডির কারুণ্য সৃষ্টি করতে পারেনি। ভীমসিংহের অতিনাটকীয়তা ও কৃষ্ণার করুণরসের লিরিকমূর্ছনার আতিশয্যে, কৃষ্ণার নমনীয়তা ও বালিকাসুলভ সরলতা তাকে করুণরসের চরিত্রে পরিণত করলেও ট্র্যাজিক কাঠিন্য দিতে পারেনি। সম্ভবত এই নাটক থেকেই মধুসূদন জীবনের বেদনাময় পরিণামের দিকে আকৃষ্ট হন। যার সার্থক পরিণতি মেঘনাদ বধের রাবণ চরিত্র।

Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন।