ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India

 

ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India
ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India 


সুপ্রিয় বন্ধুরা,

Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা, আজ নিয়ে এসেছি ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India . প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন WBP | WBTET | WBCS | SSC | TET | WBPSC | Food SI | BANK EXAM | All Jobs Exam | রাজ্য বা দেশের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা | স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই www.ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India




ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে | Origin of the Name of India  


ভারত নামটির উৎপত্তি::-

ভারত নামটির উৎপত্তি সম্বন্ধে জানা যায়- পুরানে চন্দ্রবংশীয় ভরত নামের এক রাজা ছিলেন। 

এই ভরতের নামানুসারেই ভারত নামটির উৎপত্তি হয়েছিল। পুরানে কথিত আছে এই বর্ষ বা অঞ্চলটি রাজা ভরতকে দান করা হয়েছিল বলে এর নাম ভারতবর্ষ। এই ভারত শব্দটি, ভারতীয় মহাকাব্য এবং ভারতের সংবিধান উভয় জায়গাতেই উল্লিখিত আছে। এটির ঐতিহাসিক নাম ভারতবর্ষ- এর একটি আধুনিক উপস্থাপনা, যা মূলত উত্তর ভারতে প্রযোজ্য ছিল, ভারত শব্দটি ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ভারতের একটি স্থানীয় নাম হিসেবে প্রচলিত হয়।


অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধানের তৃতীয় সংস্করণ অনুসারে, "ইন্ডিয়া" নামটি ধ্রুপদী ল্যাতিন শব্দ ইন্ডিয়া থেকে গৃহীত হয়েছে। এর দ্বারা দক্ষিণ এশিয়া এবং এর পূর্ব দিকের একটি অনিশ্চিত অঞ্চলকে উল্লেখ করে হতো। শব্দটি ধারাবাহিকভাবে হেলেনিস্টিক গ্রিক ভাষায় ইন্ডিয়া (Ἰνδία), প্রাচীন গ্রিক ভাষায় ইন্দাস (Ἰνδός), প্রাচীন ফার্সি ভাষায় আকিমিনীয় সাম্রাজ্যের একটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হিসাবে হিন্দুশ এবং শেষ পর্যন্ত সগোত্রীয় সংস্কৃত শব্দ সিন্ধু থেকে উদ্ভূত হয়েছে, সিন্ধু শব্দটির দ্বারা বিশেষত সিন্ধু নদী ও এর জনবসতি যুক্ত দক্ষিণ অববাহিকাকে উল্লেখ করা হয়। প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের ইন্দোই বলত, যার বঙ্গানুবাদ হল "সিন্ধু অঞ্চলের মানুষ"।


"হিন্দুস্তান" শব্দটি মুঘল সাম্রাজ্যের আমলে প্রবর্তিত ভারতের একটি মধ্য ফার্সি নাম, এবং মুঘল আমল থেকে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়। শব্দটির অর্থ বৈচিত্র্যময় দেশ। হিন্দুস্তান বলতে বর্তমানের উত্তর ভারত এবং পাকিস্তান বা তার নিকটবর্তী ভারতের সমগ্র অঞ্চলকে বোঝানো হয়ে থাকে।


ভারতের ইতিহাস::-


■ প্রাচীন ভারতের ইতিহাস:-


মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভীমবেটকায় প্রস্তর ক্ষেত্র থেকে  ভারতে মানববসতির প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া যায়। এক লক্ষ বছর আগেও এখানে মানুষের বসবাস ছিল বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। প্রায় ৯০০০ বছর আগে এদেশে স্থায়ী মানববসতি গড়ে উঠেছিল; যা পরবর্তীকালে পশ্চিম ভারতের ইতিহাস-প্রসিদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার রূপ ধারণ করে। এই সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল প্রায় ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। এরপর ভারতে বৈদিক যুগের সূত্রপাত হয়েছিল। এই যুগেই আবির্ভাব ঘটেছিল হিন্দুধর্ম তথা প্রাচীন ভারতীয় সমাজের। বৈদিক যুগের সমাপ্তিকাল আনুমানিক প্রায় ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। আনুমানিক প্রায় ৫৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মহাজনপদ নামে অনেকগুলি স্বাধীন রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজ্য।


মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস:-


মধ্যযুগীয় ভারতে অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে গুপ্ত সম্রাটদের শাসনকাল প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ নামে আখ্যা পায়। এছাড়া এই যুগে পূর্ব ভারতে পাল এবং দাক্ষিণাত্যে চালুক্য, চোল ও বিজয়নগর প্রভৃতি সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। এই সকল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা, সাহিত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন প্রভৃতি  সমৃদ্ধি লাভ করে।


পরবর্তীকালে খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে ইসলামের অনুপ্রবেশ ঘটতে শুরু করে। এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারত প্রথমে সুলতানি ও পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। মহামতি আকবরের রাজত্বকালে দেশে একাধারে যেমন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনা হয়েছিল, ঠিক তেমনই প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি। ক্রমে ক্রমে মুঘল সম্রাটগণ উপমহাদেশের এক বৃহৎ অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল। যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তারকারী অসমের অহোম রাজশক্তি এবং আরও কয়েকটি রাজ্য মুঘল আগ্রাসন প্রতিহত করে নিজেদের স্বাধীন রাখতে পেরেছিল। 


আধুনিক ভারতের ইতিহাস:-


প্রায় ১৮৫৬ সালের মধ্যেই ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়েগিয়েছিল। এর এক বছর পরেই ঘটেছিল সিপাহি বিদ্রোহ। ভারতের ইতিহাসে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও তার দ্বারা দেশে কোম্পানির শাসনের দুর্বলতার দিকগুলি উন্মোচিত করে দিয়েছিল। 

এরপর বিংশ শতকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি দেশজুড়ে ব্যাপক স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অগ্রগণ্য নেতা মহাত্মা গান্ধী লক্ষাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অহিংস গণ-আইন অমান্য জাতীয় আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষলগ্নে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও তার আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রাম ভারতের ইতিহাসে সদা স্বরনীয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তিলাভ করে। একই সঙ্গে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলমান-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি বিভক্ত হয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের নতুন সংবিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারতে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

Previous Post Next Post