সুপ্রিয় বন্ধুরা,
Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা, আজ নিয়ে এসেছি নৌবিদ্রোহের কারণ ও গুরুত্ব | Causes and Importance of the Naval Mutiny . প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন WBP | WBTET | WBCS | SSC | TET | WBPSC | Food SI | BANK EXAM | All Jobs Exam | রাজ্য বা দেশের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা | স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই www.ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে নৌবিদ্রোহের কারণ ও গুরুত্ব | Causes and Importance of the Naval Mutiny।
নৌবিদ্রোহের কারণ ও গুরুত্ব | Causes and Importance of the Naval Mutiny
❏ নৌবিদ্রোহ (Naval mutiny): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিক থেকে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে। একদিকে আজাদ হিন্দ ফৌজের ধৃত সৈনিকদের বিচার, অন্যদিকে সিমলা বৈঠক, সাধারণ নির্বাচন এবং ওয়াভেল পরিকল্পনার ব্যর্থতা সারা দেশে চরম সাম্প্রদায়িক সমস্যার সৃষ্টি করে। ভারতীয় রাজনীতির এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেই ১৯৪৬ সালে ভারতীয় নৌ-সেনারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
❏ নৌ-বিদ্রোহের কারণ (Causes of the Naval Mutiny): নৌ-বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, যেমন :
প্রথমত, ব্রিটিশ অফিসারদের জাতিগত বিদ্বেষ, বৈষম্যমূলক আচরণ ও অত্যাচার ভারতীয় নাবিকদের ক্রমশ ক্ষুব্ধ করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ সময়েই ভারতীয় নাবিকদের নিকৃষ্টমানের খাদ্যদ্রব্য দেওয়ায় তারা সরকারের উপর অসন্তুষ্ট হয়।
তৃতীয়ত, ইউরোপিয়ানদের সমান যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় সেনাদের বেতনের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হত। বিশেষ বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতিও ঘটত না।
চতুর্থত, অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভারতীয় নৌ-সেনাদের যুদ্ধের কাজে বহু দূরদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হত।
❏ ওপরের এই সব প্রত্যক্ষ কারণ ছাড়াও, আজাদ হিন্দ বাহিনীর মুক্তি সংগ্রাম ব্রিটিশ নৌ-বাহিনীর ভারতীয় নৌ-সেনাদের পরোক্ষভাবে উদ্দীপিত করে। বস্তুত, আজাদ হিন্দ বাহিনীর ধৃত সৈনিকদের মুক্তির দাবিতেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহের পথে পা বাড়ায়। এছাড়াও এই সময় ইংল্যান্ডের নির্বাচনে শ্রমিক দল ক্ষমতায় আসায় ভারতীয় নৌ-সেনারা উৎসাহিত হয় এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য ধর্মঘট শুরু করে। এই ধর্মঘটই ক্রমশ নৌ-বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয়।
❏ সূচনা ও ব্যাপ্তি: ১৯৪৬ সালের ১৮ ই ফ্রেব্রুয়ারি মুম্বই - এর তলোয়ার জাহাজের নাবিকেরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ শুরু করে। তারা মাস্কুল থেকে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে এনে সেখানে জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগও কমিউনিস্ট দলের লাল নিশান উড়িয়ে দেয়। বিদ্রোহের খবর বিদ্যুৎ গতিতে প্রসার লাভ করে বন্দরে বন্দরে। পরদিন মুম্বই বন্দরের বারোটি জাহাজে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং প্রায় কুড়ি হাজার নৌ-সেনা বিদ্রোহে যোগ দেয়। বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। এরপর করাচী, কলকাতা ও কোচিন বন্দরে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
❏ সাধারণ মানুষের ভূমিকা: এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র নৌ-সেনাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে নি। মুম্বই -এ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ধর্মঘটী নাবিকদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। বিভিন্ন স্থানে হরতাল, মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলকারখানাগুলি অচল হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সেনানায়ক অ্যাডমিরাল গডফ্রে চরমপত্র দিলেন নাবিকদের — ‘আত্মসমর্পণ না করলে সমস্ত জাহাজ উড়িয়ে দেওয়া হবে। এই দাম্ভিক হুঁশিয়ারির প্রত্যুত্তরে সমগ্র মুম্বইয়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হল। অবস্থা আয়ত্তে আনবার জন্য কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনী তলব করলেন। সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ এবং আহত হলেন আরও অনেকে।
❏ বিভিন্ন দলের ভূমিকা: মুম্বই -এ নৌ-বিদ্রোহে কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য বামপন্থীরা বিশিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেন। মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার এক গোপন রিপোর্টে লেখেন, “এই বিক্ষোভে সবচেয়ে বিপজ্জনক ভূমিকা নিয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি”। কমিউনিস্ট নেতা ডঃ জি.অধিকারী ও বি. টি. রণদিভে এই বিক্ষোভে সক্রিয় অংশ নেন। কমিউনিস্ট পার্টি নৌ-সেনাদের এই বিদ্রোহকে একটি ব্যাপক জাতীয় বিদ্রোহে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয় দলই বিদ্রোহের ব্যাপকতা লক্ষ করে অস্বস্তি অনুভব করে। এই পরিস্থিতিতে সর্দার প্যাটেল ও মুসলিম লীগ নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ্ বিদ্রোহী নাবিকদের আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলেন। গান্ধিজি, জওহরলাল নেহরু, মৌলানা আজাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহীদের হিংসার পথ গ্রহণ করা পছন্দ করেননি। জাতীয় দলগুলির অসহযোগিতার ফলে নিরুপায় বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় (২৩ শে ফেব্রুয়ারি)। তবে তারা ঘোষণা করল “আমরা আত্মসমর্পণ করছি ব্রিটিশের কাছে নয় , ভারতের কাছে”।
❏ গুরুত্ব ও মূল্যায়ন: আপাতদৃষ্টিতে নৌ-সেনাদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অসমসাহসী অভ্যুত্থান ব্যর্থ মনে হলেও ঐতিহাসিক দিক থেকে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ছিল। কারণ এই প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অংশ এবং জনসাধারণ এক ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেদের যুক্ত করে। এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু স্পষ্টতই বলেছেন যে, ‘নৌ-বিদ্রোহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করেছে। 'দ্বিতীয়ত, রুশ-বিপ্লবে ‘পোটেমকিন? ’ যুদ্ধ জাহাজের যে ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, ভারতের জাতীয় সংগ্রামে নৌ-বিদ্রোহের ভূমিকা তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। নৌ-বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সহজেই উপলব্ধি করেন যে, ভারতীয় সৈন্যবাহিনী দিয়ে আর ভারত শাসন করা যাবে না।
পরিশেষে বলা যায় যে, নৌ-বিদ্রোহের বহ্নিশিখা যখন জ্বলছিল, সেই সময় (১৯ শে ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এট্লী ভারতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নীতি সরকারিভাবে ঘোষণা করলেন। এর যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায় ঐতিহাসিক রজনীপাম দত্তের এই মন্তব্যে, ‘সরকার ভয় পেয়ে ভারতের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ক্যাবিনেট মিশন পাঠাতে বাধ্য হয়। এইভাবে নৌ-বিদ্রোহ ভারতকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:- 1000 জেনারেল নলেজ প্রশ্ন উত্তর PDF