সুপ্রিয় বন্ধুরা,
Wellcome to www.ajjkal.com চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা ঠিকানা, আজ নিয়ে এসেছি ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ | Division of Powers of the President of India . প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার যেমন WBP | WBTET | WBCS | SSC | TET | WBPSC | Food SI | BANK EXAM | All Jobs Exam | রাজ্য বা দেশের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা | স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি পত্র আপনাদের বিনামূল্যে দিয়ে এসেছি। তাই www.ajjkal.com আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ | Division of Powers of the President of India।
ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ | Division of Powers of the President of India
❏ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ: ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে পাঁচ ধরনের ক্ষমতার অধিকারী করেছে, এগুলি হল: (১) শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা; (২) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা; (৩) অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা; (৪) বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা ও (৫) জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা।
●(১) শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ রাষ্ট্র শাসন পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য থাকেন। রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল, ভারতের এটর্নি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিয়োগ ও পদচ্যুত করার অধিকার রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন মন্ত্রীসভাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। এছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি, অডিটর জেনারেল, নির্বাচন কমিশনার এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদাধিকার বলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি যুদ্ধ ঘোষণা ও শান্তিস্থাপন করতে পারেন। ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন, অন্যান্য দেশে ভারতের প্রতিনিধিদের পাঠান এবং ভারতে অন্য দেশের প্রতিনিধিদের গ্রহণ করেন।
● (২) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রীতি অনুসারে রাষ্ট্রপতি হলেন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা বিভাগ বা সংসদের একটি অংশ। তিনি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, অব্যাহত রাখতে এবং সংবিধানের নিয়ম মেনে প্রয়োজনবোধে লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কোনও বিল আইনে পরিণত হয় না। সংসদের উভয় সভায় (লোকসভা ও রাজ্যসভায়) পাশ হওয়ার পর প্রত্যেক বিলকে অনুমোদনের জন্য তাঁর কাছে পাঠাতে হয়, প্রয়োজন মনে করলে এইসব বিল তিনি অনুমোদন করতে পারেন অথবা নাও করতে পারেন এবং অর্থবিল (money bill) ছাড়া অন্য যে-কোনও বিলকে পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদের উভয় পরিষদে ফেরত পাঠাতে পারেন (অর্থ বিলকে ফেরত পাঠানো যায় না)। সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অর্ডিনাল বা অস্থায়ী জরুরি আইন জারি করতে পারেন। এই রকম আইন বা অর্ডিন্যান্স সংসদের অধিবেশন বসার পরও ছ'সপ্তাহের জন্য কার্যকরী থাকতে পারে।
● (৩) অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া ব্যয়মঞ্জুরী সংক্রান্ত কোনও বিল সংসদে উত্থাপন করা যায় না। রাষ্ট্রপতির নিযুক্ত অর্থকমিশনের সুপারিশ অনুসারে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত রাজস্ব কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্যসরকারের মধ্যে বন্টন করা হয়। রাষ্ট্রপতি প্রতি আর্থিক বছরের (Financial year) প্রারম্ভে সেই বছরের জন্য আয়-ব্যয় সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে একটি বিবৃতি সাধারণত অর্থমন্ত্রীর মারফৎ সংসদের উভয় সভায় পেশ করান, এই বিবৃতিকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট বলা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতির হাতে আকস্মিক ব্যয় সংকুলানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল থাকে।
● (৪) বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা: বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতির দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করার অথবা তার দণ্ডাদেশ হ্রাস করার অথবা দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
● (৫) জরুরি ক্ষমতা: ভারতের সংবিধান অনুসারে তিনটি বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, যেমন :
প্রথমত, যুদ্ধ, বৈদেশিক আক্রমণ, অথবা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। জরুরি অবস্থা জারি করা হলে রাজ্যগুলির শাসন ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতার দায়িত্ব ভারতীয় সংসদ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর বর্তানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা এককেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় পরিণত হবে। এছাড়া জরুরি অবস্থায় ভারতের রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, কোনও রাজ্যের রাজ্যপালের রিপোর্টের ভিত্তিতে অথবা অন্যভাবে যদি রাষ্ট্রপতি স্থির নিশ্চিত হন যে, রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে তিনি রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করে সেই রাজ্যের শাসনভার নিজের হাতে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল তাঁর তথা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের শাসন কাজ পরিচালনা করেন এবং ভারতীয় সংসদ রাজ্য বিধানসভার কাজ করেন।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে, ভারতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে সমগ্র দেশ অথবা দেশের কোনও অংশের আর্থিক স্থায়িত্ব ও সুনাম এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঘোরতর ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে তিনি দেশে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে: (১) সরকারের ওপর অর্থনৈতিক বাধানিষেধ আরোপ করতে এবং ব্যয় হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন এবং (২) হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মাইনে কমিয়ে দিতে পারেন।
আরও পড়ুন:- 1000 জেনারেল নলেজ প্রশ্ন উত্তর PDF